আজ শুক্রবার ২৫রা আশ্বিন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১০ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৭ হিজরি
নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৫: কে জিততে পারেন এই মর্যাদার লড়াইয়ে?
নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণার আগে বাড়ছে জল্পনা। ট্রাম্প, সিপিজে ও সুদানের ইআরআর— কারা এগিয়ে এই মর্যাদার দৌড়ে?
নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৫: কার হাতে উঠতে পারে শান্তির প্রতীক?
বিশ্বজুড়ে এখন চূড়ান্ত আগ্রহ— কে পাচ্ছেনোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৫?
অসলোর ঠান্ডা সকালে যখন বিজয়ীর নাম ঘোষিত হবে, তার আগে উত্তেজনায় ফুটছে রাজনৈতিক মহল, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং জুয়াড়ি প্রতিষ্ঠানগুলো।
![]() |
| নোবেল শান্তি পুরস্কার 2025 ট্রাম্পের স্বপ্ন কি সত্যি হবে |
নোবেল কমিটি দীর্ঘদিন ধরে মনোনীতদের নাম গোপন রাখার ঐতিহ্য বজায় রেখেছে।
এবারও ব্যতিক্রম নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ৩৩৮ জন ব্যক্তি ও সংস্থা মনোনীত হয়েছেন এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য।
তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে কারা এগিয়ে?
অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (PRIOR)-এর পরিচালক নিনা গ্রেগার কয়েকটি নাম উল্লেখ করেছেন যাদের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
তিনি বলেছেন —
“যদি শান্তি পুরস্কার কোনো মানবিক সংগঠন যেমন সুদানের জরুরি সাড়াদান কক্ষ (Emergency Response Room - ERR)-কে দেওয়া হয়, তবে তা দেখাবে কীভাবে সাধারণ মানুষ সংঘাতের সময় জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
নিনা গ্রেগার আরও যোগ করেন,
“এই দলগুলো কেবল খাবার সরবরাহই করেনি, বরং আহতদের চিকিৎসা দিয়েছে, মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে এবং অবকাঠামো মেরামতেও কাজ করেছে।”
মুক্ত সাংবাদিকতার প্রতীক হিসেবে সিপিজে (CPJ)
গ্রেগারের মতে, আরেকটি সম্ভাব্য প্রার্থী সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি (Committee to Protect Journalists - CPJ)।
তিনি বলেন —
“আজকের পৃথিবীতে যেখানে সংবাদমাধ্যম বারবার হামলার শিকার, সেখানে CPJে পুরস্কৃত করা মানে হবে— শান্তি ও গণতন্ত্রের মূলভিত্তি হলো মুক্ত সাংবাদিকতা, সেটি স্বীকৃতি দেওয়া।”
কেন সিপিজে গুরুত্বপূর্ণ
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশে সহায়তা করা
যুদ্ধক্ষেত্র ও সংঘাতে তথ্যপ্রবাহ বজায় রাখা
ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও বিতর্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য।
তবে বিশেষজ্ঞরা ভিন্নমত পোষণ করছেন।
নোবেল কমিটির প্রাক্তন সদস্যদের মতে,
“শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কার্যক্রম বিতর্কিত ও বিভাজনমূলক ছিল।”
কিন্তু বাজির বাজারে এগিয়ে ট্রাম্প!
বিশেষজ্ঞদের মতের সম্পূর্ণ বিপরীতে চলছে আন্তর্জাতিক জুয়ার বাজার।
জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম Ladbrokes ও OddsPedia-র তথ্যে দেখা গেছে—
ট্রাম্পকে রাখা হয়েছে শীর্ষ প্রার্থীদের তালিকায়।
কিছু পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিনি ERROR সঙ্গে যৌথভাবে এগিয়ে রয়েছেন।
বাজির তালিকায় শীর্ষ ৫ সম্ভাব্য প্রার্থী
ক্র. নাম / সংস্থা সম্ভাব্যতা (%) বিশ্লেষকদের মন্তব্য
১ ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৩% জনপ্রিয়তা ও প্রচারণায় এগিয়ে
২ সুদানের ইআরআর ২২% মানবিক অবদান ও সহায়তা কার্যক্রম
৩ সিপিজে ২০% সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষায় ভূমিকা
৪ ইউলিয়া নাভালনায়া ১৫% রুশ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক
৫ জাতিসংঘের গাজা মানবিক মিশন ১২% যুদ্ধক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা
কেন নোবেল শান্তি পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ?
নোবেল শান্তি পুরস্কার শুধু সম্মান নয়; এটি বিশ্বরাজনীতিতে নৈতিক বার্তা পাঠায়।
এর মাধ্যমে নোবেল কমিটি বোঝাতে চায়—
যারা যুদ্ধ, দমন বা বিভাজনের মধ্যেও শান্তি ও মানবতার বার্তা ছড়াচ্ছে, তারাই সত্যিকারের নায়ক।
📌 অতীতের কিছু উল্লেখযোগ্য প্রাপক:
মালালা ইউসুফজাই (২০১৪) – নারী শিক্ষার জন্য সংগ্রাম
আবিই আহমেদ (২০১৯) – ইথিওপিয়া-ইরিত্রিয়া শান্তিচুক্তি
মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি মুরাতভ (২০২১) – গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ: কাকে দেওয়া হতে পারে ২০২৫ সালের নোবেল?
পিআরআইও-এর গবেষকরা মনে করেন,
“২০২৫ সালের পুরস্কার এমন একজন বা সংগঠনকে দেওয়া হতে পারে, যারা মানবিক সংকট ও যুদ্ধের মধ্যেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।”
সুদানের ইআরআর সেই মানদণ্ডে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রার্থী।
তারা নিরস্ত্র জনগণের জন্য চিকিৎসা ও আশ্রয় দিয়েছেন, যা আধুনিক শান্তি আন্দোলনের এক প্রতীক হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, সিপিজে পেতে পারে প্রতীকী গুরুত্ব—
যেখানে তথ্যের সত্যতা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এখন আগের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে।
ট্রাম্প কি সত্যিই শান্তির প্রতীক হতে পারেন?
সাংবাদিকদের রক্ষা করা কি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ?
যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের স্বেচ্ছাসেবকরা কি আধুনিক নায়ক?
❓ প্রশ্নোত্তর (Q&A)
প্রশ্ন ১: নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৫ কবে ঘোষণা হবে?
👉 সাধারণত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে, নরওয়ের অসলোতে ঘোষণার প্রচলন রয়েছে।
প্রশ্ন ২: পুরস্কারের অর্থমূল্য কত?
👉 বিজয়ী পাবেন প্রায় ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ৯ লক্ষ মার্কিন ডলার)।
প্রশ্ন ৩: কতদিন পর জানা যায় মনোনীতদের নাম?
👉 নোবেল কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, ৫০ বছর পর মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করা হয়।
শান্তির দৌড়ে মানবতার জয় কামনা
বিশ্ব যখন বিভাজন, সংঘাত ও মতাদর্শিক লড়াইয়ে বিভ্রান্ত, তখন নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৫ মানবতার আশা জাগায়।
যেই এই পুরস্কার পানা কেন, মূল বার্তাটি স্পষ্ট —
“শান্তি প্রতিষ্ঠা মানে শুধু যুদ্ধ থামানো নয়, বরং মানবতার প্রতি অবিচল অঙ্গীকার।”
আপনি কাকে মনে করেন নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৫ পাওয়ার যোগ্য?
মন্তব্যে জানিয়ে দিন আপনার মতামত 👇
আর এমন গভীর বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন পেতে আমাদের ব্লগটি নিয়মিত পড়ুন!

0 Comments