Advertisement

0

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশ

 

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২২১ রানে অলআউট বাংলাদেশ। দুর্বল ব্যাটিং ও রশিদ খানের ঘূর্ণিতে ভুগল মিরাজরা।

টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাইয়ের পরও বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং নিয়ে ছিল গভীর উদ্বেগ। সেই ভয়টাই সত্যি প্রমাণিত হলো ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে। আবুধাবির গরমে গলে গেলো বাংলাদেশের টপ অর্ডার, হারালো ছন্দ, আর ব্যাট হাতে ব্যর্থতার গল্প লিখল পুরো দল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২২১ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশের পরাজয় যেন এক সতর্কবার্তা— “বোলাররা বাঁচাতে পারে, কিন্তু ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে!”

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশ
আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশ
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ধস

আবুধাবির উইকেট ছিল ব্যাটিং সহায়ক— অন্তত টস জিতে মিরাজ তাই বলেছিলেন। ২৮০ রান করলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা যেত বলে আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ইনিংসের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়:

তানজিদ (১০), শান্ত (২), সাইফ হাসান (২৬) দ্রুত ফিরেছেন।

দলীয় ফিফটির মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

তারপর দায়িত্ব নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়।

১৪২ বলে ১০১ রানের দারুণ জুটি গড়েন তারা।

কিন্তু ৩৬তম ওভারে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে যান হৃদয় (৫৬)।

সেই থেকেই আবার শুরু হয় ধস।

পরপর উইকেট পড়তে থাকে — জাকের আলী (১০), নুরুল হাসান সোহান (৭), মিরাজ নিজেও ৫০ এর ঘরে গিয়ে থেমে যান।

শেষ দিকে তানজিম হাসান সাকিবের ২৩ বলে ১৭ রান বাংলাদেশের সংগ্রহ ২২১ পর্যন্ত টেনে নেয়।

🌀 রশিদের ঘূর্ণিতে ভোগান্তি

রশিদ খান যেন বাংলাদেশি ব্যাটারদের এক দুঃস্বপ্ন।

নিয়েছেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

জাকের, সোহান ও মিরাজ— তিনজনকেই ফিরিয়েছেন তিনি নিখুঁত টার্নে।

আফগানদের বোলিং আক্রমণে তাঁকে চমৎকার সহায়তা দিয়েছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই, যিনি নিয়েছেন আরও ৩ উইকেট।

🏏 আফগানিস্তানের জয়ের পথ সহজ

২২২ রানের টার্গেট খুব বড় কিছু ছিল না। আফগানরা শুরু থেকেই স্থিরভাবে খেলেছে।

৫২ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পরও চাপ অনুভব করেনি দলটি।

রহমত শাহ ও গুরবাজের ১১১ বলে ৭৮ রানের জুটি ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়।

দুজনই ৫০ রান করে ফিরে গেলেও, তখন জয় অনেকটাই নিশ্চিত।

শেষ দিকে হাসমতউল্লাহ শহিদি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচটা শেষ করেন।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

বিষয় পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ ইনিংস ২২১ (৪৮.৫ ওভার)

আফগানিস্তান ইনিংস ২২২/৪ (৪৭ ওভার, আনুমানিক)

সর্বোচ্চ রান তাওহীদ হৃদয় – ৫৬

সেরা বোলার (আফগান) রশিদ খান – ৩/৪০

পার্টনারশিপ মিরাজ–হৃদয় (১০১ রান)

ভেন্যু আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত

 টপ অর্ডারের দায়

বাংলাদেশের বড় ম্যাচে টপ অর্ডার নিয়মিতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। কন্ডিশন বুঝে খেলার দক্ষতার অভাব প্রকট।

মিডল অর্ডারের জুটি

মিরাজ ও হৃদয়ের জুটি কিছুটা স্থিতি আনলেও, বড় রানের ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই।

 বোলিংয়ে ধার

তানজিম সাকিব কিছুটা লড়েছেন, তবে অন্য পেসাররা ছিলেন অনুজ্জ্বল। স্পিনারদের নিয়ন্ত্রণও অনুপস্থিত ছিল।

বাংলাদেশ যদি সিরিজে ফিরে আসতে চায়, তবে ব্যাটিং অর্ডারে জরুরি পরিবর্তন আনতেই হবে।

প্রস্তাবিত দিকনির্দেশনা:

নতুন ওপেনার কম্বিনেশন বিবেচনা করা।

অভিজ্ঞদের দায়িত্ববোধ বাড়ানো।

স্পিন আক্রমণকে আগের মতো ধারালো করা।

❓প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী দেখা যাচ্ছে?

উত্তর: ব্যাটিংয়ের স্থায়িত্ব ও টপ অর্ডারের ব্যর্থতা।

প্রশ্ন ২: কে ছিলেন বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার?

উত্তর: মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়, যারা ১০১ রানের জুটি গড়েন।

প্রশ্ন ৩: রশিদ খানের বিপক্ষে বাংলাদেশ কীভাবে সফল হতে পারে?

উত্তর: স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটারদের আরও পরিকল্পিত হতে হবে— বিশেষ করে ফুটওয়ার্ক ও স্ট্রাইক রোটেশন বাড়াতে হবে।

ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরাজয় বাংলাদেশের জন্য জাগরণ ঘণ্টা। এই হার শুধু একটি ম্যাচ নয়— বরং একটি সংকেত, ব্যাটিং লাইনআপে কাঠামোগত পরিবর্তনের সময় এসেছে। সিরিজে ফিরে আসতে হলে দলকে সমন্বিতভাবে খেলতে হবে। আফগানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটাই এখন বাংলাদেশের জন্য “করো অথবা মরো” মুহূর্ত।

👉 ম্যাচ বিশ্লেষণ ও বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের পেজে Follow করুন! 🏏



আরও পড়ুনআলটিমেট প্রমাণিত জয় শারজায় আফগানিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজে

Post a Comment

0 Comments