Advertisement

0

রেকর্ড জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের | মিরাজ ও রিশাদের স্পিনে বিধ্বস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ


আজ শুক্রবার ৯রা কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি

 রেকর্ড জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের | মিরাজ-রিশাদের জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭৯ রানে হারিয়ে রেকর্ড জয়ে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। মিরপুরে মিরাজ ও রিশাদের ঘূর্ণি জাদুতে ক্যারিবিয়ানরা ধসে পড়েছে।

Dhaka News স্পোর্টস ডেস্ক | বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন

মিরপুরে ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এটি শুধু আরেকটি জয় নয়—বরং পরিসংখ্যান ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ এক রেকর্ডবহুল জয়।

মিরপুরে রেকর্ড জয়ের পর উল্লাসে মেতে ওঠা বাংলাদেশ দল, মিরাজ ও রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণি জাদুতে বিধ্বস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল।


সিরিজের পটভূমি: সুপার ওভারে নাটকীয়তা থেকে অঘোষিত ফাইনালে

সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়, দ্বিতীয় ম্যাচে সুপার ওভারে হার—বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছিল এক উত্তেজনাপূর্ণ আবহ। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে পরিণত হয়েছিল ‘অঘোষিত ফাইনালে’। কিন্তু সেই ফাইনালে লড়াইয়ের কোনো ছাপই রাখতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা।

স্পিন ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পতন

২৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরু থেকেই নাসুম আহমেদ, তানভীর ইসলাম, রিশাদ হোসেন ও অধিনায়ক মিরাজ মিলে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেন।

নাসুম আহমেদ: ৩ উইকেট

রিশাদ হোসেন: ৩ উইকেট (সিরিজে মোট ১২ উইকেট)

তানভীর ইসলাম: ২ উইকেট

মেহেদী হাসান মিরাজ: ২ উইকেট

স্পিনারদের এই ঘূর্ণিঝড়ে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেননি শাই হোপ, রোস্টন চেস কিংবা ব্রুকসরা। মিরপুরের উইকেট যেন হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের স্পিন-বিশ্ববিদ্যালয়।

 নতুন তারকার উত্থান

তিন ম্যাচের সিরিজে ১২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে এক সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ারেকর্ড গড়েছেন রিশাদ হোসেন।

এর আগে ২০১৪ সালে আরাফাত সানি নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। এখন থেকে রিশাদই স্পিন-রাজ্যের নতু নাম।

পরিসংখ্যান বলছে—

রিশাদ (১২)

মাশরাফি বিন মুর্তজা (১২)

মুস্তাফিজুর রহমান (১৩ – সর্বোচ্চ)

এই তিনজনই বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজে সর্বাধিক উইকেটশিকারিদের তালিকায় শীর্ষে আছেন।

ওপেনিংয়ে রেকর্ড: সৌম্য-সাইফের সোনালী জুটি

বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের মূল ভিত্তি গড়ে দেন সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। দু’জনের উদ্বোধনী জুটিতে ১৭৬ রান—মিরপুরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী পার্টনারশিপ।

 ওপেনিং রেকর্ডসমূহ:

১৭৬ রান – সৌম্য-সাইফ (২০২৫, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে)

১৫০ রান – ইমরুল-এনামুল (২০১৪, পাকিস্তানের বিপক্ষে)

সৌম্য খেলেছেন ৯১ রানের ঝড়ো ইনিংস (৭ চার, ৪ ছক্কা), আর সাইফ করেছেন ৮০ (৬ ছক্কা, ৪ চার)। দুজনেরই শতকের আক্ষেপ থাকলেও তাদের ইনিংসই ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়।

মাঝের ধস, কিন্তু শেষভাগে উদ্ধার

ওপেনারদের বিদায়ের পর হঠাৎ ব্যাটিং ধস নেমে আসে। মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত (৪৪), নুরুল হাসান সোহান (১৬*) ও অধিনায়ক মিরাজের (১৭) ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে দল পৌঁছে যায় ২৯৬ রানে।

প্রতিপক্ষের হয়ে আকিল হোসেনিয়েছেন ৪ উইকেট, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি ক্যারিবিয়ানদের।

বোলিং আক্রমণে পরিকল্পনার সাফল্য

বাংলাদেশের টিম্যানেজমেন্ট শুরু থেকেই জানত—মিরপুরের উইকেট স্পিনারদের সহায়ক হবে। তাই একমাত্র পেসার হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানকে খেলানো হলেও তিনি বল করেননি।

এটি ছিল পুরোপুরি কৌশলগত সিদ্ধান্ত—ঘূর্ণি আক্রমণের উপর নির্ভর করে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা।

ফলাফল? ৩৪.৫ ওভারেই শেষ ক্যারিবিয়ান ইনিংস।

সিরিজ পরিসংখ্যান:

বিভাগ পরিসংখ্যান

সিরিজ ফলাফল বাংলাদেশ জয় (২–১)

সর্বোচ্চ রান সৌম্য সরকার (৯১)

সর্বাধিক উইকেট রিশাদ হোসেন (১২)

ম্যাচসেরা সৌম্য সরকার

সিরিজসেরা রিশাদ হোসেন

সর্বোচ্চ জয় ব্যবধান ১৭৯ রান (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে)

 আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল বাংলাদেশ

টানা চার ওয়ানডে সিরিজ হারের পর অবশেষে জয়ের হাসি দেখল বাংলাদেশ। এই জয় শুধু একটি সিরিজ জয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও কৌশলগত পরিপক্বতার প্রতিফলন।

“স্পিনারদের এমন নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স অনেক দিন পর দেখা গেল। রিশাদ ও তানভীরের মতো তরুণরা ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করছে।”

— (খেলাধুলা বিশ্লেষক, ঢাকা নিউজ)

বাংলাদেশের পরবর্তী সিরিজে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বিদেশি কন্ডিশনে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। বিশেষ করে ওপেনারদের ফর্ম ধরে রাখা এবং মিডল অর্ডারকে আরও স্থিতিশীল করা জরুরি।

প্রশ্ন ১: বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ জয় ব্যবধান কত?

উত্তর: ১৮৩ রান — ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে।

প্রশ্ন ২: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগেরেকর্ড কী ছিল?

উত্তর: ২০১২ সালে খুলনায় ১৬০ রানের ব্যবধানে জয়ই ছিল আগের সর্বোচ্চ।

প্রশ্ন ৩: সিরিজসেরা কে হয়েছেন?

উত্তর: রিশাদ হোসেন (১২ উইকেট ও অসাধারণ ধারাবাহিকতা)।

প্রশ্ন ৪: বাংলাদেশ দলে নতুন কারা পারফর্ম করেছেন?

উত্তর: তানভীর ইসলাম ও রিশাদ হোসেন—দুজনই স্পিন আক্রমণে মূল ভূমিকা রেখেছেন।

প্রশ্ন ৫: বাংলাদেশ পরবর্তী সিরিজে কার বিপক্ষে খেলবে?

উত্তর: সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রেকর্ড জয়ে সিরিজিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট আবারো প্রমাণ করেছে—সঠিক পরিকল্পনা, আত্মবিশ্বাস ও টিমওয়ার্ক থাকলে প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, জয় ধরা দেয়।

আপনি কি মনে করেন এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা আগামী সিরিজগুলোতেও বজায় থাকবে? নিচে মন্তব্যে জানান, আর সর্বশেষ ক্রিকেট আপডেট পেতে Dhaka News Sports ফলো করুন।


লেখক:

Md. Nauru Islam

Blogger | Digital Marketer | Video Editor

বিশ্লেষণাত্মক স্পোর্টস লেখক, Dhaka News

Post a Comment

0 Comments