রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়ানো: ভিয়ারিয়ালকে হারিয়ে লা লিগার শীর্ষে
ভিয়ারিয়ালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে লা লিগার শীর্ষে ফিরল রিয়াল মাদ্রিদ। ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল ও এমবাপ্পের অবদান ম্যাচে দিল নতুন মোড়।
![]() |
| রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়ানো লা লিগার শীর্ষে |
লা লিগার সাম্প্রতিক মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের পারফরম্যান্স ঘিরে ছিল নানা প্রশ্ন। গত সপ্তাহে আতলেতিকোর বিপক্ষে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি। কিন্তু শনিবারাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ভিয়ারিয়ালকে ৩–১ গোলে হারিয়ে কেবল সমালোচকদের জবাবই দেয়নি, বরং আবারও লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে জাভি আলোনসোর শিষ্যরা। ম্যাচে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহ্যামের অবদানও ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রথমার্ধের হতাশা ও সমর্থকদের দুয়ো
প্রথমার্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে যাচ্ছিল ম্যাচ।
রিয়ালের খেলোয়াড়রা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে সমর্থকরা দুয়ো দিতে শুরু করেন।
আক্রমণ সাজাতে ব্যর্থ হন এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস।
ভিয়ারিয়ালও পাল্টা আক্রমণে বেশ বিপজ্জনক ছিল।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ:
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রথমার্ধে রিয়ালের সমস্যার মূল কারণ ছিল মিডফিল্ডের ধীর গতি এবং আক্রমণে সমন্বয়ের অভাব। বেলিংহ্যামকে একান্তে বিচ্ছিন্ন করে রাখায় আক্রমণের ধার কমে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচেরূপ বদল
ভিনিসিয়ুসের প্রথম গোল
বিরতির মাত্র দেড় মিনিট পর খেলার চিত্র পাল্টে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
এমবাপ্পের নিখুঁত পাস পান ভিনি।
বাঁ দিক থেকে কেটে ঢুকে শট নেন।
বল প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়ায়।
এই গোল মুহূর্তেই বার্নাব্যুর পরিবেশ বদলে দেয়। হতাশার বদলে উল্লাসে মুখরিত হয় দর্শকরা।
দ্বিতীয় গোল: পেনাল্টি থেকে ভিনিসিয়ুস
৬৯তম মিনিটে রাফা মারিনের ফাউলে পেনাল্টি পায় রিয়াল।
আত্মবিশ্বাসী ভিনিসিয়ুস নিজেই শট নেন।
গোলরক্ষক তেনাসের হাত ছুঁয়ে বল জালে জড়ায়।
স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২–০।
ভিয়ারিয়ালের লড়াই ও মিকাউতাডজের গোল
রিয়ালের লিড সত্ত্বেও ভিয়ারিয়াল হাল ছাড়েনি।
বদলি হিসেবে নামা বেলিংহ্যাম একবার একান্তে গিয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন।
তার কয়েক সেকেন্ড পরেই জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড জর্জেস মিকাউতাডজে দুর্দান্ত শটে গোল করেন।
ব্যবধান কমে আসে ২–১ এ।
বিশ্লেষণ:
এ গোল ভিয়ারিয়ালের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং রিয়ালকে আবার চাপে ফেলে। তবে রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় দলটি ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
শেষ মুহূর্তে রিয়ালের নিশ্চয়তা
ম্যাচের শেষ দিকে এমবাপ্পে আবারও আক্রমণে গতি আনেন।
তার থ্রু বল থেকে ব্রাজিলিয়ান রদ্রিগো বল পেয়ে গোল করেন।
ফলে ম্যাচের ফলাফল দাঁড়ায় ৩–১।
এই জয়ে রিয়াল আবারও লা লিগার শীর্ষে উঠে আসে।
রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের মূল কারণ
ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল
আক্রমণে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে এনেছেন।
প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে চাপের মুখে রেখেছেন।
এমবাপ্পের ভূমিকা
দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পাস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করেন।
তার গতি ও দক্ষতা ভিয়ারিয়ালের ডিফেন্সকে ভেঙে দেয়।
রক্ষণভাগের দৃঢ়তা
মিকাউতাডজের গোল বাদে বাকি সময় প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: রিয়ালের ভবিষ্যৎ কী বলছে?
লা লিগার শীর্ষে ফিরে আসলেও রিয়ালের এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।
মিডফিল্ডে ভারসাম্য আনার জন্য আরও কৌশলগত পরিবর্তন দরকার।
বেলিংহ্যামের ফিনিশিং উন্নত করতে হবে।
এমবাপ্পে–ভিনিসিয়ুস জুটি আরও ধারালো হলে দল অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে।
ম্যাচের মূল মুহূর্তগুলো (Bullet Points)
০–০ অবস্থায় সমর্থকদের দুয়ো
৪৬ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের প্রথম গোল
৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল
৭৫ মিনিটে মিকাউতাডজের গোল
৮৮ মিনিটে রদ্রিগোর গোল
আতলেতিকোর বিপক্ষে লজ্জাজনক হারের পর এই জয় রিয়াল মাদ্রিদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে। ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, এমবাপ্পের অবদান এবং রদ্রিগোর শেষ মুহূর্তের গোল বার্নাব্যুতে সমর্থকদের নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। লা লিগার শীর্ষে ফেরা রিয়ালের জন্য আগামী ম্যাচগুলোতে এই ফর্ম ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রিয়াল মাদ্রিদেখিয়ে দিল—হারের পরও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে শিরোপা তাদের হাতছাড়া করা কঠিন হবে।
FAQ (Question & Answer)
Q1: রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড় কে ছিলেন?
A: ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন ম্যাচের নায়ক, যিনি জোড়া গোল করে দলকে জয়ে ফিরিয়েছেন।
Q2: এমবাপ্পের অবদান কী ছিল?
A: এমবাপ্পে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাস দিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেন এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখেন।
Q3: ভিয়ারিয়ালের হয়ে কে গোল করেছেন?
A: জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড জর্জেস মিকাউতাডজে একটি দুর্দান্ত শটে গোল করেন।
Q4: এই জয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগায় কোন অবস্থানে উঠেছে?
A: এই জয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগার শীর্ষে উঠে এসেছে।
Q5: রিয়ালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী সামনে?
A: ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং মিডফিল্ডে ভারসাম্য আনা রিয়ালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

0 Comments