Advertisement

0

শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ সম্ভব নয় ইসি আনোয়ারুল ইসলাম

 

শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ সম্ভব নয় ইসি আনোয়ারুল ইসলাম

নির্বাচন কমিশনার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানালেন, ‘শাপলা’ প্রতীককে বরাদ্দ দেওয়া আইনানুগ সম্ভব নয় কারণ তা নির্ধারিত তালিকায় নেই। নির্বাচন রমজানের আগে হবে — আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সব বাহিনী প্রস্তুত। Daily Observer+2The Financial Express+2

“প্রতীক নির্ধারণ সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালার আওতায় করা হয়। ‘শাপলা’ প্রতীক সেই তালিকায় নেই, তাই তা বরাদ্দে দেওয়ার সুযোগও নেই।” — এই কথা বললে নির্বাচন কমিশনার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। 

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন, যেখানে তিনি জানান যে ‘শাপলা’ প্রতীক সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালার তালিকায় না থাকায় বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন, যেখানে তিনি জানান যে ‘শাপলা’ প্রতীক সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালার তালিকায় না থাকায় বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়।
এই এক বাক্যেই উঠে এসেছে দুই­টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — প্রথম, প্রতীকের বিষয়বস্তু নির্বাচনী বিধি ও সংবিধানের দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ধারিত হয়; দ্বিতীয়, ‘শাপলা’ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয় কারণ আইনগতভাবে নির্ধারি তালিকায় নেই। এই ঘটনা রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের প্রেক্ষাপটকে সরাসরি সামনে নিয়ে এসেছে।

আজকের এই নিবন্ধে আমরা বিশ্লেষণ করব: কেন ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া যাচ্ছে না, আইন-বিধি কি বলছে, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কি অর্থ বহন করে, এবং আগামী নির্বাচনকে ঘিরে কি প্রভাব থাকতে পারে।

‘শাপলা’ প্রতীকের বরাদ্দ না-দেওয়ার কারণ

Election Commission of Bangladesh (ইসি) জানিয়েছে, “প্রতীক নির্ধারণ সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালার আওতায় করা হয়।” 

নির্বাচন-প্রচলিত প্রতীকের তালিকা আইন অনুযায়ী লিপিবদ্ধ। যদি কোনো প্রতীক সেই তালিকায় না থাকে, তাহলে তা বরাদ্দেওয়া সম্ভব নয় — যেমন ‘শাপলা’। 

ইসি নিজের অবস্থানে বলেছে: “শাপলা প্রতীক সেই তালিকায় নেই, তাই তা বরাদ্ধ দেওয়া সুযোগ নেই।” 

রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি ও ইসির অবস্থান

Bangladesh Congress দাবি করেছে, তারা আগে থেকেই ‘শাপলা’ প্রতীক ব্যবহার করেছে এবং এখন তা পরিবর্তন করে বরাদ্দ চায়। National Citizens’ Party (এনসিপি) – তাদেরও দাবি ‘শাপলা’ প্রতীকের ওপর। কিন্তু ইসি জানিয়েছে– তালিকায় নেই, তাই নয়। 

ইসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের সিদ্ধান্তে কোনো বাহ্যিক প্রভাব  নেই। 

 আগ্রাসী চ্যালেঞ্জ ও আইনী বাধা

প্রতীকের তালিকা আইনানুগভাবে নির্ধারিত হওয়ায়, পরিবর্তন করার জন্য নির্বাচনী বিধিমালায় সংশোধন প্রয়োজন। অনিয়মিতভাবে বরাদ্দ ওয়া হলে তা সংবিধান-বিধি অনুসারে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা গেছে– ইসি জানিয়েছে, ‘শাপলা’ তালিকায় না থাকায় এবং নিয়মে নেই বলে এনসিপিকে অন্যান্য প্রতীক থেকে নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। 

রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

অনেক দল ‘শাপলা’ প্রতীকের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছে – কারণ এটি দেশের জাতীয় চিহ্নের সঙ্গে যুক্ত। যেমন, বাংলাদেশ কংগ্রেস দাবি করেছে তারা প্রথম ‘শাপলা’ ব্যবহার করেছিল। 

তবে আইন-বিধি ঠিক যেমন বলছে তেমনভাবে তালিকায় না থাকায় দলগুলোর দাবি থেকে তারা এখন সিদ্ধান্তমূলক বাধার মুখে।

 প্রতীকের গুরুত্ব

প্রতীক একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী পরিচয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ভোটাররা প্রতীক দেখে চিনতে পারে। প্রতীকের কারণে কোনো দল নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে; প্রতীক-চিহ্নের অভিজ্ঞতা ও স্বীকৃতি থাকা মানে ভোটারদের মনে পরিচিতি।

তাই ‘শাপলা’ বরাদ্দ সম্ভব না হওয়া দলের জন্য মানসিক এবং রাজনৈতিকভাবে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 নির্বাচন-প্রস্তুতি ও ইসির মনোবল

ইসি মাত্র বলেই দিয়েছে, রমজানের আগে নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো প্রস্তুত থাকবে। তারা বিতর্কিত কোনো কর্মকর্তা যাতে দায়িত্বে না থাকে বলেও জানিয়েছে। 

 ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

যদি রাজনৈতিক দলগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চাপ দেয়, তাহলে নির্বাচন-বিধিমালায় সংশোধনের সম্ভাবনা থাকতে পারে। কিন্তু তা সহজ নয় — আইন, নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবিক প্রক্রিয়া জটিল।

যেমন, একটি সংবাদে বলা হয়েছে, ইসি একাধিকবার স্পষ্ট করেছে “আমরা তালিকা থেকে ‘শাপলা’ যোগ করতে দিচ্ছি না”। 

    The Financial Express, Daily Observer, en.bd-pratidin.com, The Business Standard, bdnews24.com, Dhaka Tribune

 দলগুলোর কৌশল পরিবর্তন

যারা ‘শাপলা’ চেয়েছিল, তারা হয়তো অন্য প্রতীকে মনোনয়ন নিতে বাধ্য হতে পারে। যেমন এনসিপিকে দেওয়া নির্দেশ ছিল– তালিকা থেকে অন্য প্রতীক বেছে নিতে হবে। 

বা দলগুলো তাদের পরিচিতি ও প্রচারণার মাধ্যমে নতুন প্রতীককে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করবে।

 নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি

ইসি বলেছে, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে না হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।, রমজানের আগেই নির্বাচন হবে।” 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো প্রশিক্ষিত হচ্ছে সুষ্ঠু দায়িত্ব পালনের জন্য। এই বিষয়টি নির্বাচনের বিশুদ্ধতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতীকের বরাদ্দ একটি আনুষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া। তালিকার বাইরে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া মানে আইন-বিধির প্রতিকূলতা। এলাম কি হতো যদি পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো? তা হলে পরবর্তী নির্বাচনবিধি-প্রসঙ্গিত মামলা, চ্যালেঞ্জ বা অন্য দলগুলোর সমানাধিকারের দাবি উঠতে পারতো।

দেশের অন্যান্য উদাহরণ দেখলে দেখা যায়, বেশ কিছু দেশে প্রতীকবিহীন দল বা নতুন প্রতীক নির্বাচন করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়েছে। তাই তালিকা ও নিয়ম আগে থেকে পরিষ্কার থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রতীকের পাশাপাশি- পরীক্ষা হয়- মনোনয়নকারী নির্বাচন কমিশন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মনিটরিং সিস্টেম, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। এখানে ইসি বলেছে বিতর্কিত কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবে না এ ব্যাপারে তারা কঠোর। 

উদাহরণস্বরূপ, এনসিপি আজকে (19 অক্টোবর 2025) প্রতীক পছন্দের জন্য সময়সীমার মুখে রয়েছে- যদি তারা ‘শাপলা’ বাদে অন্য প্রতীক পছন্দ না করে  , ইসি তাদের জন্য অন্য প্রতীক বরাদ্দ করবে বলেছে। 

এছাড়া, বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর আবেদন দেখলে বোঝা যায়– দীর্ঘমেয়াদী দাবী থাকলেও আইন-বিধি অনুযায়ী তা আদৌ কার্যকর হয়নি। 

প্রশ্ন ১: কেন ‘শাপলা’ প্রতীককে বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না?

উত্তর: কারণ এটি ইসির নির্ধারিত প্রতীকের তালিকায় নেই এবং সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালার আওতায় এ ধরনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় না। 

প্রশ্ন ২: ঘরানাভিত্তিক দল একে পরিবর্তন করে কি অন্য প্রতীক নিতে পারবে?

উত্তর: হ্যাঁ, দলগুলোকে ইসি-র দেওয়া অনুমোদি তালিকা থেকে প্রতীক বেছে নিতে বলা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এনসিপিকে অন্য প্রতীক বেছে নিয়ে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

প্রশ্ন ৩: এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনকে কি প্রভাব ফেলবে?

উত্তর: হ্যাঁ, প্রতীকের কারণে ভোট-পরিচিতি, দলীয় ব্র্যান্ডিং, ভোটারদের মনগড়া চিন্তা-ভাবনায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে আইন-বিধি মানা নির্বাচন-বিশুদ্ধতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন ৪: তাহলে আগামী নির্বাচন কখন হবে?

উত্তর: ইসি বলেছে, রমজানের আগে নির্বাচন হবে এবং ফেব্রুয়ারিতে না হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। 

প্রশ্ন ৫: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি প্রস্তুত আছে?

উত্তর: হ্যাঁ, ইসি জানিয়েছে — “নির্বাচনকালীন দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের লক্ষে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী প্রস্তুত।” 

আজকের আলোচনা স্পষ্ট করে দিয়েছে—ভোটাধিকার ও প্রতীকের বিষয় যেমন আইন-বিধি-সংবিধানের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতীক বরাদ্দের  জন্যও তা এক বড় চ্যালেঞ্জ। ‘শাপলা’ প্রতীক নিয়ে দলগুলোর দাবি থাকলেও, ইসির আইনানুগ স্থিতিস্থাপকতা ও নির্বাচন-প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা আজ এটি একটি সিদ্ধান্তে পৌছিয়েছে ।

নির্বাচন দ্রুত ঘনিয়ে আসছে, এবং এখন প্রতীক-বহির্ভূত বিষয়গুলো হৃদয়গ্রাহী হলেও, আইন ও নিয়মের ছায়া সব ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করছে। ভোটার হিসেবে আমরা চাই— এমন নির্বাচন যেখানে প্রতীকের চিত্র নয়, ভোটার ভোটাধিকার একান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে কতটা যৌক্তিক মনে করছেন? আপনার মতামত নিচে কমেন্টে লিখুন, এবং এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন যাতে অন্যরাও জানতে পারে প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ।



Post a Comment

0 Comments