ঢাকার হজরাত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে; উড়োজাহাজ ওঠানামা শুরু করেছে।
ঢাকার হজরাত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সাত ঘণ্টার তাণ্ডবের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে; উড়োজাহাজ ওঠানামা শুরু করেছে।
![]() |
আজ দুপুর সোয়া দুইটায় শুরু হয়ে ঢাকার হজরাত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে যে আগুন ধরেছে—সাত ঘণ্টা পর তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই ঘটনায় শুধুই একটি অগ্নিকান্ড নয়, বরং দেশের বিমানবন্ধুর অবকাঠামো, বিমান চালনা নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পণ্য চলাচলের বড় একটি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্গো আগুন, বিমানের ওঠানামা স্থগিততা, আন্তর্জাতিক পরিষেবা বিপর্যয় — এসব বিষয় আমরা এক সঙ্গে বিশ্লেষণ করব।
আগুন কোথায় ও কখন শুরু হয়েছিল?
শনিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৫) দুপুর প্রায় ২:১৫ পিএম নাগাদ ASIA কার্গো ভিলেজ এলাকায় আগুনের আলামত পাওয়া যায়।
খবর পাওয়া মতে, আগুন প্রথম প্রসারিত হয় কার্গো ভিলেজ বা ইনপোর্ট পার্শ্ববর্তী স্টোরেজ এলাকা থেকে।
স্থানীয় সূত্র জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল কারণ সেখানে ‘ highly flammable substances’ (বেশ জ্বালানু বা দাহ্য উপাদান) রাখা ছিল।
আগুন মোকাবিলা ও নিয়ন্ত্রণ
আগুন নেভাতে পাঠানো হয়েছিল বিমানবন্দর ও ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর প্রায় ৩৭টি ইউনিট। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বায়ু বাহিনীসহ একাধিক বিভাগ অংশ নিয়েছিল এই তৎপরতায়। রাত ৯ঃ১৮ মিনিটে আগুনটি ‘নিয়ন্ত্রণে’ এসেছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। তবে “নির্বাপণ” (পুরোপুরি আগুনেভানো) হয়েছে কি না, তা এখনও সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়নি।
উড়োজাহাজ ওঠানামায় প্রভাব
আগুনের কারণে ASIAে উড়োজাহাজ ওঠানামা সুস্থরুপে বন্ধ হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য।কিছু ফ্লাইট বিকল্প বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উড়োজাহাজ ওঠানামা ধীরে ধীরে পুনরায় শুরু হয়।
বিমানবন্দর ও কার্গো সেক্টরে বিপর্যয়
ASIA কার্গো ভিলেজ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পণ্য আমদানি-রপ্তানায় দ্রুত প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।প্রথম দ্রুতচালিত তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। কার্গো ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে — যেমন অত্যাধিক দাহ্য উপাদানের সংরক্ষণ।
নিরাপত্তা-প্রটোকল ও অবকাঠামোর সংকট
মাত্র কয়েক দিন আগে বিমানবন্দরের কার্গো নিরাপত্তায় চালানো হয়নি অভিযোগ উঠে এসেছে। আগুন কোনো দুর্ঘটনা না হয়, তাহলে এটি সাবটেজ বা অগ্নিসংযোগও হতে পারে — সরকারের তদন্ত কমিটি এই দিকেও নজর দিচ্ছে।
যাত্রী ও সাধারণ মানুষের জন্য প্রভাব
যাত্রীরা ধৈর্যপূর্ব হতে বলা হচ্ছে, কারণ বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক করতে সময় লাগতে পারে।আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজ চলাচলে বিরতি হলে যাত্রী বিভ্রান্তি ও অসুবিধার সৃষ্টি হয়। বাণিজ্যিক পণ্যের বিলম্ব, খরচ বৃদ্ধি ও রপ্তানিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি রপ্তানিকারক জানান:
“আমার এক রপ্তানিসম্পর্কিত চালান কার্গো ভিলেজে ছিল — এখন জানি না কতটা নিরাপদ।” (উক্তি সংশ্লিষ্ট সংবাদ উৎস থেকে মোটামুটি সারাংশ হিসেবে নেওয়া) আগুন নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন:
“যেসব জায়গায় দাহ্য পদার্থ রাখা হয়, সেসব এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে; প্রথম পর্যায়ে সঠিক ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”
সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু সচেতনতামূলক নির্দেশিকা:
কার্গো স্টোরেজ এলাকায় দাহ্য পদার্থ নিয়মিত পরিদর্শন করুন।
বিমানবন্দর বা পরিবহন সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বিমা ও নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত করুন।
যাত্রী হিসাবে বিমানবন্দর কার্যক্রমে বিরতি ও বিকল্প রুট-পরিকল্পনা বিবেচনায় রাখুন।
প্রফসর এ.কে. মাজহারুল ইসলাম, পরিবহন ও লজিস্টিক্স বিশ্লেষক:
“একটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমন বড় আগুন হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং আমাদের বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোর দুর্বলতা উন্মোচন করেছে।”
মিজানুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস বিশ্লেষক:
“বহু পণ্যে উপস্থিত দাহ্য উপাদান, সঠিক দূরত্ব না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ স্টোরেজ ব্যবস্থা — এগুলো একসাথে মিললে আগুনিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়।”
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও পরামর্শ
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে কার্গো স্টোরেজ এলাকায় দাহ্য পদার্থের সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও স্টোরেজ নীতি শক্তিশালী করতে হবে।
নিয়মিত হেলথ & সেফটি অডিট, আগুনেভানোর ড্রিল ও জরুরি পরিকল্পনায় অভ্যস্ত হতে হবে। প্রো-অ্যাকটিভ মনিটরিং সিস্টেম ও সেন্সর ব্যবহার করে আগুন হওয়ার আগেই সতর্কতা দেওয়া সম্ভব।
যাত্রী ও গুদাম-অপারেটরদের শিক্ষিত করা জরুরি — “কিভাবে ঝুঁকি সনাক্ত করবেন” বিষয়ক কর্মশালা ব্যবহারী হতে পারে।
ঢাকার হজরাত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সৃষ্ট আগুন শুধু একটিবার ঘটনা নয় — এটি আমাদের নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক লজিস্টিকস ব্যবস্থার এক বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের দায়িত্ব হলো এই চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করা, বিশ্লেষণ করা এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ ও সচেতন ব্যবস্থার জন্য সক্রিয় হওয়া।
আপনি যদি যাত্রী হন — আগুনিয়ন্ত্রণে আসা পর্যন্ত বিমানে ওঠানামা পূর্ব পরিকল্পনা করুন।ব্যবসায়ী বা গুদাম ব্যবস্থাপক হলে — আপনার স্টোরেজ এলাকা, দাহ্য পদার্থ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা অডিট শিডিউল নিশ্চিত করুন।সাধারণ পাঠক হিসেবে — নিরাপত্তা সংক্রান্ত খবর মনে রাখুন, সচেতন থাকুন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন।
Alt Text (SEO Image Description)
“ঢাকার হজরাত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন ও ধোঁয়ার মেঘ, ফায়ার সার্ভিস ইউনিটগুলোর কর্মরত দৃশ্য”
প্রশ্ন ১: আগুন কতক্ষণ ধরে লেগেছিল?
উত্তর: প্রায় সাত ঘণ্টার মধ্যেই আগুনিয়ন্ত্রণে আসে — রাত ৯টার পর।
প্রশ্ন ২: এই আগুনে কোনো যাত্রীর ক্ষতি হয়েছে কি?
উত্তর: এখনো কোনো যাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে কার্গো ও বিমানের ওঠানামায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
প্রশ্ন ৩: আগুনের কারণ কী?
উত্তর: আনুষ্ঠানিকারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি; দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণের দুর্বলতা একটি মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রশ্ন ৪: বিমানের ওঠানামা কখন থেকে শুরু হয়েছে?
উত্তর: আগুন নিয়ন্ত্রণের পর সন্ধ্যার দিকে ধীরে ধীরে উড়োজাহাজ ওঠানামা শুরু হয়েছে।
প্রশ্ন ৫: ভবিষ্যতে কি এমন ঘটনা রোধ করা সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন, দাহ্য পদার্থের নিয়ন্ত্রণ, জরুরি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত নজরদারি সংযুক্ত হলে এ ধরনের ঘটনা বড়ভাবে রোধ করা সম্ভব।

0 Comments