Advertisement

0

খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়

 

খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় 

লেখক আলতাব মোল্লা        

আলতাব মোল্লার প্রতিকৃতি ছবি, সমসাময়িক আলোচনায় থাকা ব্যক্তিত্ব আলতাব মোল্লা

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন, সংগ্রাম, গণতন্ত্র রক্ষা ও নেতৃত্বের ইতিহাস—কেন তিনি বাংলাদেশেরাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

বাংলাদেশেরাজনীতিতে কিছু নাম আছে, যেগুলো কেবল ব্যক্তি পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—পরিণত হয় ইতিহাসের অংশে। খালেদা জিয়া তেমনই একটি নাম। তিনি শুধু তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক, আপসহীনেতৃত্বের দৃষ্টান্ত এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল।

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবিকতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশ্নে তার অবস্থান তাকে আলাদা করেছে সমসাময়িক সব নেতার ভিড় থেকে। এই কারণেই খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

খালেদা জিয়া: শৈশব, শিক্ষা ও পারিবারিক জীবন

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারতবর্ষের জলপাইগুঁড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী অস্থির এক সময়ে তার জন্ম। পারিবারিক আদরে বড় হওয়া শান্ত স্বভাবের এই কন্যার নাম রাখা হয়েছিল ‘শান্তি’, ডাকনাম ছিল ‘পুতুল’

বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া
বাংলাদেশের ইতিহাসে অমলিন নাম—দেশনেত্রী খালেদা জিয়া


পরবর্তীতে তার পরিবার দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

শিক্ষাজীবনে তিনি

দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন

দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে উচ্চশিক্ষা

কলেজে অধ্যয়নকালেই তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। এই সম্পর্কই ভবিষ্যতে তাকে ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

মুক্তিযুদ্ধ ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলার সময় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন চট্টগ্রামে। স্বামী মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ভয়াবহ।

এই সময়

তিনি আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন                         

দুই সন্তানসহ বন্দি হন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে 

দীর্ঘ সময় গৃহবন্দি অবস্থায় কাটান

১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি পান তিনি। এই সময়ের ত্যাগ ও সংগ্রাম তার চরিত্রে দৃঢ়তা ও ধৈর্যের ভিত্তি তৈরি করে।

রাজনীতিতে প্রবেশ: গৃহবধূ থেকে নেত্রী

১৯৮১ সালের ৩১ মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদতবরণ করলে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন মোড় নেয়। তখন পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ।

দল ও দেশের প্রয়োজনে

১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির সদস্য হন

১৯৮৩ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান

১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি চেয়ারপারসন

এভাবেই রাজনীতিতে তার উত্থান, যা ছিল জনগণের দাবির ফল।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও আপসহীনেতৃত্ব

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন প্রধান প্রতিরোধ শক্তি। 

তার নেতৃত্বে

সাতদলীয় জোট গঠিত হয়

প্রহসনের নির্বাচনের বিরোধিতা করা হয়

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন জোরদার হয়

এই সময়ে তিনি

সাতবার কারাবরণ করেন

‘আপসহীনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন

জনগণের চোখে তিনি হয়ে ওঠেন গণতন্ত্রের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে

খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকার প্রধান

তার শাসনামলে

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

তৈরি পোশাক খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান

নারীর ক্ষমতায়ন

শিক্ষা খাতে

বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা

মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা

উপবৃত্তি কর্মসূচি

এগুলো তাকে সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়া

তিনি 

জাতিসংঘে গঙ্গার পানিবণ্টন ইস্যু উত্থাপন

হোয়াইট হাউসে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরেন

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে প্রশংসিত হন

সম্মাননা

ফোর্বস ম্যাগাজিনে বিশ্বের প্রভাবশালী নারী

ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি

মাদার অব ডেমোক্রেসি

নির্যাতন, কারাবরণ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা

ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত

খালেদা জিয়া

রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি

চিকিৎসা বঞ্চনার শিকার

মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিক নেতৃত্ব

খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য

পরিমিত ভাষা

প্রতিহিংসাহীন রাজনীতি

শালীনতা ও সহিষ্ণুতা

তিনি কখনো

ব্যক্তিগত আক্রমণে যাননি

অশালীন ভাষা ব্যবহার করেননি

এ কারণেই তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে সম্মান অর্জন করেছেন।

কেন তিনি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ

বিশেষজ্ঞদের মতে

তিনি গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন

নারীর নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন

রাজনৈতিক নৈতিকতার মানদণ্ড স্থাপন করেছেন

এই কারণেই খালেদা জিয়া কেবল একটি নাম নন, একটি ইতিহাস।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশেরাজনীতিতে এক অনন্য অধ্যায়। তার জীবন মানেই সংগ্রাম, তারাজনীতি মানেই নৈতিকতা, আর তার নেতৃত্ব মানেই গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি।

এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের জানা জরুরি।

এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন, মতামত জানান এবং Dhaka News–এর সঙ্গে থাকুন ইতিহাসভিত্তিক নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণে।

প্রশ্ন: খালেদা জিয়া কতবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন

উত্তর: তিনবার।

প্রশ্ন: তিনি কেন ‘আপসহীনেত্রী’

উত্তর: স্বৈরাচারের সঙ্গে কখনো আপস না করার কারণে।

প্রশ্ন: তার সবচেয়ে বড় অবদান কী

উত্তর: সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নারীর ক্ষমতায়ন।


{

  "@context": "https://schema.org",

  "@type": "News Article",

  "headline": "খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়",

  "description": "তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন, সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ।",

  "author": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News"

  },

  "publisher": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News"

  },

  "date Published": "2025-12-29",

  "mainEntityOfPage": {

    "@type": "Webpage",

    "@id": "https://dhakanews.com"

  }

}

Post a Comment

0 Comments