খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রা: পতাকায় মোড়ানো মরদেহ
মেটা বর্ণনা: বাংলাদেশের আইকনিক নেত্রী খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে করে গুলশান থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নেওয়া হচ্ছে জানাজার জন্য। তারাজনৈতিক সংগ্রাম, অর্জন এবং উত্তরাধিকারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ পড়ুন Dhaka News।
আজ, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, বাংলাদেশেরাজনীতির এক অমোঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মরদেহ, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে করে, গুলশান থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নেওয়া হচ্ছে। এই দৃশ্য শুধু একটি শোকের মুহূর্ত নয়, বরং একটি জাতির ইতিহাসের প্রতিফলন। কীভাবে একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠলেন? তার সংগ্রামী জীবন কীভাবে দেশের গণতন্ত্রকে প্রভাবিত করেছে? এই প্রবন্ধে আমরা তার জীবনের গভীরতা অনুসন্ধান করব, যাতে আপনি তার উত্তরাধিকারের সত্যিকারের মূল্য বুঝতে পারেন।
![]() |
খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রা: জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহ গুলশান থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে হাজারো সমর্থক তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির এক অমোঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি।
খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রার বিবরণ
আজ বুধবার সকালে, বেলা ১১টা ৪ মিনিটে, খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়িবহর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে বেরিয়েছে। এই বাসাটি তার পুত্র তারেক রহমানের। গাড়িবহরে একটি লাল-সবুজ রঙের বাসও রয়েছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার প্রতীক। পরিবারের সদস্যরা, যেমন তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, এবং ছোট পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী, সকলে জানাজাস্থলে যাচ্ছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং তার স্বজনেরাও এই বহরে যুক্ত।
জানাজা শেষে, তাকে দাফন করা হবে তার স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে। এই স্থানটি বাংলাদেশেরাজনৈতিক ইতিহাসের একটি প্রতীকী জায়গা, যেখানে জিয়াউর রহমানের স্মৃতি এখনও জীবন্ত। সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিএনপির নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠ, ফার্মগেটের খামারবাড়ি এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছেন, যারা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।
এই ঘটনা বাংলাদেশেরাজনীতিতে একটি টার্নিং পয়েন্ট। খালেদা জিয়া শুধু একজন নেত্রী ছিলেনা, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক। তার মৃত্যুতে দেশেরাজনৈতিক ভারসাম্য কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকরা আলোচনা করছেন।
খালেদা জিয়ার প্রারম্ভিক জীবন এবং পরিবার
খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন, যা তখন অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, এবং মা তাইয়েবা মজুমদার গৃহিণী। শৈশবে তার নাম ছিল 'শান্তি', এবং ডাকনাম 'পুতুল'। পরিবার পরে দিনাজপুরে চলে আসে, যেখানে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি পরে বাংলাদেশেরাষ্ট্রপতি হন। এই দম্পতির দুই পুত্র: তারেক এবং আরাফাত। খালেদা জিয়ার প্রারম্ভিক জীবন ছিল সাধারণ গৃহিণীর মতো, কিন্তু ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যার পর তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এই ঘটনা তার জীবনকে আমূল বদলে দেয়।
তার পরিবারিক জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক:
জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহ: এটি তার রাজনৈতিক যাত্রার ভিত্তি গড়ে।
পুত্রদের ভূমিকা: তারেক রহমান এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন, যিনি লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করেন।
বিতর্কিত পরিবার: আরাফাত রহমানের মৃত্যু এবং তারেকের বিরুদ্ধে মামলা তার জীবনকে জটিল করেছে।
রাজনৈতিক উত্থান: গৃহিণী থেকে প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮২ সালে, যখন তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে, এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।
তার রাজনৈতিক্যারিয়ারের মাইলফলক:
১৯৯১-১৯৯৬: প্রথম মেয়াদে অর্থনৈতিক সংস্কার, যেমন বেসরকারি খাতের উন্নয়ন।
২০০১-২০০৬: দ্বিতীয় মেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন জামুনা সেতু।
গণতন্ত্রের সংগ্রাম: ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আলী রিয়াজ বলেন, "খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছেন, কিন্তু তার নেতৃত্বে দুর্নীতির অভিযোগ তার উত্তরাধিকারকে কলঙ্কিত করেছে।"
অর্জনসমূহ: বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান
খালেদা জিয়ার শাসনকালে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ান।
কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন:
যমুনা বহুমুখী সেতু: এটি উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণের সাথে যুক্ত করেছে, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করেছে।
নারী ক্ষমতায়ন: প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নারীদেরাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেন।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার: ১৯৯০-এর দশকে এরশাদ শাসনের পতনের নেতৃত্ব দেন।
উদাহরণ: ২০০১-এর নির্বাচনে তার জোট ১৯৩টি আসন জিতে, যা বাংলাদেশেরাজনৈতিক ইতিহাসে একটি রেকর্ড।
বিতর্ক এবং চ্যালেঞ্জসমূহ
খালেদা জিয়ার জীবন বিতর্কমুক্ত ছিল না। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা তার স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।
প্রধান বিতর্ক:
দুর্নীতির অভিযোগ: জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের সাজা।
রাজনৈতিক সহিংসতা: ২০১৫-এর হরতালে সহিংসতার অভিযোগ।
পরিবারের জড়িততা: পুত্রদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ।
বিশেষজ্ঞ মত: আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলেন, এই মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল, কিন্তু তার শাসনকালে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সত্য।
উত্তরাধিকার: বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব
খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার বাংলাদেশের দ্বিদলীয় রাজনীতির ভিত্তি। তিনি বিএনপিকে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
তার প্রভাবের দিকসমূহ:
গণতন্ত্রের রক্ষক: সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই।
অর্থনৈতিক সংস্কার: বাজারমুখী নীতি চালু।
নারী নেতৃত্ব: মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী নেত্রী।
উদাহরণ: তার নেতৃত্বে বিএনপি ৪২ বছর ধরে দেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী।
জনমত এবং শোকপ্রকাশ
আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হওয়া ভিড় দেখে বোঝা যায়, খালেদা জিয়া জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। বিএনপির কর্মীরা বলছেন, "তিনি আমাদের মা, গণতন্ত্রের যোদ্ধা।" সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: তার মৃত্যু বিএনপির ভবিষ্যতকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারেক রহমান কীভাবে দলকে একত্রিত রাখবেন?
ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি
খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশেরাজনীতিতে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে সম্পর্কীভাবে পরিবর্তিত হবে? বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।
খালেদা জিয়া কখন মারা যান?
তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মারা যান, ৮০ বছর বয়সে।
তার দাফন কোথায় হবে?
জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
তার রাজনৈতিক অর্জন কী?
তিনবার প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা।
তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল?
দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক সহিংসতা।
বিএনপির ভবিষ্যত কী?
তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল এগিয়ে যাবে।
খালেদা জিয়ার জীবন একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প—সংগ্রাম, নেতৃত্ব এবং উত্তরাধিকারের। তার শেষ যাত্রা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, জনগণের সেবা। Dhaka News আরও রাজনৈতিক খবর পড়তে সাবস্ক্রাইব করুন এবং কমেন্টে আপনার চিন্তা শেয়ার করুন। আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ—এখনই জয়েন করুন!
জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নেওয়া হচ্ছে, ঢাকায় শোকের ভিড়।
<script type="application/LD+Jason">
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "News Article",
"headline": "খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রা: পতাকায় মোড়ানো মরদেহ",
"image": [
"https://media.prothomalo.com/prothomalo-english/2025-12-31/6y07nv7q/Khaleda-Zia-in-Flag-3.avif?w=1200&h=675&auto=format%2Ccompress&fit=max"
],
"date Published": "2025-12-31T12:00:00+06:00",
"date Modified": "2025-12-31T12:00:00+06:00",
"author": [{
"@type": "Person",
"name": "Dhaka News Desk",
"URL": "https://dhakanews.com/author/dhaka-news-desk"
}],
"publisher": {
"@type": "Organization",
"name": "Dhaka News",
"logo": {
"@type": "Image Object",
"URL": "https://dhakanews.com/logo.png"
}
},
"description": "বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মরদেহের শেষ যাত্রা এবং তার জীবনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ।",
"mainEntityOfPage": {
"@type": "Webpage",
"@id": "https://dhakanews.com/khaleda-zia-funeral-procession"
}
}
</script>

0 Comments