Advertisement

0

আদনান দীপনের বিস্ফোরক অভিযোগ: বিসিবির ছয় মাসের দুর্নীতি পাপনের ১৫ বছরকেও ছাড়িয়ে গেছে

 

আজ রবিবার ১২রা মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ শাবান ১৪৪৭ হিজরি

আদনান দীপনের বিস্ফোরক অভিযোগ: বিসিবির ছয় মাসের দুর্নীতি পাপনের ১৫ বছরকেও ছাড়িয়ে গেছে

স্পোর্টস ডেস্ক         সংগ্রহ - বিডি প্রতিদিন

বিসিবিতে দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বোর্ড পরিচালক আদনান রহমান দীপন। ছয় মাসের দুর্নীতি নাকি পাপনের ১৫ বছরের শাসনকেও হার মানিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে দুর্নীতি—এই শব্দযুগল নতুন নয়। তবে এবার অভিযোগের তীব্রতা ও বিস্তৃতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের হতবাক করে দিয়েছে। বিসিবির বর্তমান বোর্ড পরিচালক আদনান রহমান দীপনের বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে। তার দাবি অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের মাত্র ছয় মাসে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তা সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের টানা ১৫ বছরের আমলকেও ছাড়িয়ে গেছে। একজন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া সংবাদ কভার করা সাংবাদিক হিসেবে বলতেই হয়, এমন মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর সংকটের ইঙ্গিত।

বিসিবির দুর্নীতি নিয়ে আদনান রহমান দীপনের বক্তব্য তুলে ধরা সংবাদচিত্র
বিসিবিতে দুর্নীতি বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। আদনান দীপনের অভিযোগে ছয় মাস বনাম ১৫ বছরের তুলনা ঘিরে তোলপাড়।


বিসিবিতে দুর্নীতি প্রসঙ্গ: কেন আবার আলোচনায়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। টিকিট ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ঘরোয়া লিগ, স্পন্সরশিপ, উন্নয়ন প্রকল্প—প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনিয়মের অভিযোগ এসেছে সময়ের পর সময়। কিন্তু এতদিন এসব অভিযোগ ছিল মূলত অনানুষ্ঠানিকিংবা রাজনৈতিক কথাবার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এবার বোর্ডের ভেতর থেকেই একজন দায়িত্বশীল পরিচালক প্রকাশ্যে যে ভাষায় দুর্নীতির মাত্রা তুলে ধরেছেন, তা পরিস্থিতিকে একেবারে নতুন মোড়ে নিয়ে গেছে।

আদনান রহমান দীপনের বক্তব্যের মূল সারাংশ

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আদনান রহমান দীপন সরাসরি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের গত ছয় মাসে বিসিবিতে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তা নজিরবিহীন। তার বক্তব্য অনুযায়ী

তিনি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারেন, গত পাঁচ-ছয় মাসে যা হয়েছে, তা পাপনের ১৫ বছরের শাসনামলের দুর্নীতির কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি।

তদন্তে যাদের নাম উঠে আসবে, তারা সবাই পরিচিত মুখ, যা সাধারণ মানুষকে বিস্মিত করবে।

বোর্ডে ভেতরে ঢোকার আগে অনেক বিষয়ই কেবল গুজব মনে হতো, কিন্তু ডকুমেন্ট ও হিসাবপত্র দেখার পর বাস্তবতা ভয়ংকর।

এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং ভেতরের নথি ও চলমান তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড: ছয় মাসে কী ঘটেছিল

দীপন যে সময়ের কথা বলছেন, তা মূলত গত বছরের মে মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত, অর্থাৎ বিসিবি নির্বাচনের আগের সময়। এই সময়টিতে বোর্ড পরিচালিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনায়। সাধারণভাবে এমন সময়গুলোকে প্রশাসনিক রুটিন বজায় রাখার পর্যায় হিসেবে ধরা হয়, বড় সিদ্ধান্ত বা ব্যয় যেখানে সীমিত থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন।

অভিযোগের ধরন

বিভিন্ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয়

চুক্তি ও টেন্ডারে স্বচ্ছতার অভাব

ক্রিকেট উন্নয়নের নামে অর্থ অপচয়

নথিপত্রে অসঙ্গতি ও গোপন লেনদেন

এই অভিযোগগুলো যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড কীভাবে এত বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পেল।

পাপনের ১৫ বছরের শাসন বনাম ছয় মাসের দুর্নীতি

নাজমুল হাসান পাপন দীর্ঘ ১৫ বছর বিসিবির নেতৃত্বে ছিলেন। তার সময়েও সমালোচনা ছিল, তবে সমর্থকদের যুক্তি ছিল, আন্তর্জাতিক সাফল্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে সেই অভিযোগগুলো আড়ালে পড়ে গেছে। কিন্তু দীপনের বক্তব্যে নতুন এক তুলনা সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে

১৫ বছরে দুর্নীতি যদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, ছয় মাসে তা ঘনীভূত হয়েছে

স্বল্প সময়ে বেশি লেনদেন মানেই নজরদারির ঘাটতি

নির্বাচনের আগের সময় হওয়ায় দায় এড়ানোর প্রবণতা থাকতে পারে

এই তুলনা সত্য হলে, তা বিসিবির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

তদন্তের অগ্রগতি ও বাইরের সংস্থার সম্পৃক্ততা

দীপনের বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তদন্তে বাইরের সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে। তার ভাষায়, কেবল বোর্ডের ভেতরের লোকজন দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।

বর্তমানে যুক্ত সংস্থাগুলো

সিআইডি

আইন বিভাগ

বিসিবির নিজস্ব অডিটিম

এতে করে তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, দেশের ক্রিকেটে আগে অনেক তদন্তই ধামাচাপা পড়ে গেছে বলে অভিযোগ ছিল।

দুদকের অভিযান: দেশের ক্রিকেটে অস্বস্তির মুহূর্ত

গত এপ্রিল মাসে বিসিবি কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযান ছিল এক বড় ধাক্কা। সেই অভিযান দেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিকভাবে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছিল। অনেকেই এটিকে জাতীয় লজ্জা হিসেবে আখ্যা দেন।

তবে ভিন্নমতও আছে। বিশ্লেষকদের মতে, লজ্জা অভিযান নয়, বরং সেই দুর্নীতিই, যা বছরের পর বছর ক্রিকেট উন্নয়নের নামে দেশের ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দুদকের উপস্থিতি অন্তত দেখিয়েছে, বিষয়টি আর উপেক্ষা করা হচ্ছে না।

নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সামনে চ্যালেঞ্জ

বিসিবির নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন নিজের ঘর সামলানো। দীপনের ভাষায়, বোর্ডের ভেতরেই আছে সিঁধকাটা চোর।

তার সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো

নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা

দোষীদের বিরুদ্ধে বাস্তব ব্যবস্থা নেওয়া

রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করা

ক্রিকেট উন্নয়নে আস্থা ফেরানো

যদি এই পর্যায়ে শক্ত অবস্থানেওয়া না হয়, তাহলে বিসিবির ওপর থেকে আস্থার শেষ অবশিষ্ট অংশটুকুও হারিয়ে যাবে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টিভঙ্গি

সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত।

একদল মনে করেন, এসব বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অন্যদল মনে করেন, এতদিন যা চাপা ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে আসছে।

তবে উভয় পক্ষই একমত, স্বচ্ছতা ছাড়া দেশের ক্রিকেট এগোতে পারে না।

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

দীর্ঘদিন ক্রিকেট প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক দুর্নীতি সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। বয়সভিত্তিক্রিকেট, ঘরোয়া লিগ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলাফল হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা কমে যায়।

একজন সাবেক্রিকেট সংগঠকের ভাষায়, দুর্নীতির টাকা কেবল হারিয়ে যায় না, সেটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুযোগও কেড়ে নেয়।

আদনান রহমান দীপনের বিস্ফোরক অভিযোগ কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সামনে আয়না ধরে দিয়েছে। তদন্ত যদি সত্যিই নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ হয়, তাহলে এই সংকট থেকেই হয়তো নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের এখন দায়িত্ব প্রশ্ন তোলা, নজর রাখা এবং স্বচ্ছতার দাবি জানানো। আপনি যদি চান, বাংলাদেশ ক্রিকেট সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যাক, তাহলে এই আলোচনা ছড়িয়ে দিন, মতামত জানান এবং দায়িত্বশীল পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থানিন।

প্রশ্ন: আদনান রহমান দীপন কী অভিযোগ করেছেন

উত্তর: তিনি দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের ছয় মাসের দুর্নীতি পাপনের ১৫ বছরের আমলকেও ছাড়িয়ে গেছে।

প্রশ্ন: কোন সময়ের দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে

উত্তর: গত বছরের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন: তদন্তে কারা যুক্ত আছেন

উত্তর: বিসিবির পাশাপাশি সিআইডি ও আইন বিভাগ তদন্তে যুক্ত হয়েছে।

প্রশ্ন: দুদকের অভিযান কবে হয়েছিল

উত্তর: গত এপ্রিল মাসে বিসিবি কার্যালয়ে দুদকের অভিযান হয়।

প্রশ্ন: নতুন সভাপতির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী

উত্তর: বোর্ডের ভেতরের দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া।


{

  "@context": "https://schema.org",

  "@type": "News Article",

  "headline": "আদনান দীপনের বিস্ফোরক অভিযোগ: বিসিবির ছয় মাসের দুর্নীতি পাপনের ১৫ বছরকেও ছাড়িয়ে গেছে",

  "description": "বিসিবিতে দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বোর্ড পরিচালক আদনান রহমান দীপন। তদন্ত, দুদক অভিযান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষণ।",

  "date Published": "2026-01-26",

  "date Modified": "2026-01-26",

  "author": {

    "@type": "Person",

    "name": "Dhaka News"

  },

  "publisher": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News",

    "logo": {

      "@type": "Image Object",

      "URL": "https://example.com/logo.png"

    }

  }

}



Post a Comment

0 Comments