Advertisement

0

হাদিসে রাসূল (সা.)-এর পাঁচ হুকুম: জামায়াত, আনুগত্য, হিজরত, জিহাদ এবং জাহিলিয়াতের শাস্তি

 হাদিসে রাসূল (সা.)-এর পাঁচ হুকুম: জামায়াত, আনুগত্য, হিজরত, জিহাদ এবং জাহিলিয়াতের শাস্তি

হাদিস আহমাদ হাকেম: জামায়াত্যাগ করলে ইসলাম ছেড়ে ফেলা – জাহিলিয়াতের আহ্বান জাহান্নামী

রাসূল (সা.)-এর হাদিসে পাঁচ হুকুম: জামায়াত, নেতার আদেশ্রবণ, আনুগত্য, হিজরত, জিহাদ। জামায়াত্যাগ করলে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলা। জাহিলিয়াতের আহ্বানকারী জাহান্নামী, নামাজ-রোজা করলেও। কুরআন-হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা, উদাহরণ এবং জীবনের প্রয়োগ। ইসলামী ঐক্য অনুসরণকারীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য!

আমার ১৫ বছরের সাংবাদিকতার জীবনে অনেক ঘটনা দেখেছি যেখানে সমাজের বিভক্তি এবং নেতৃত্বের অভাব মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। কিন্তু ইসলামী শিক্ষায় এই বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা দেখলে অবাক হতে হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে তিনি পাঁচটি মৌলিক হুকুমের কথা বলেছেন, যা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং সাফল্যের চাবিকাঠি। 

হাদিসে রাসূল সা এর পাঁচ হুকুম জামায়াত আনুগত্য হিজরত জিহাদ ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ব্যাকগ্রাউন্ড
রাসূল (সা.)-এর পাঁচ হুকুম: জামায়াত, আনুগত্য, হিজরত ও জিহাদ—ঐক্যবদ্ধ মুসলিম জীবনের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা।


হাদিসটি এমন: “আল্লাহ তায়ালা আমাকে যে পাঁচটি বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন, আমিও তোমাদেরকে তারই হুকুম দিচ্ছি। তা হলো- জামায়াত, নেতার আদেশ শ্রবণ, আনুগত্য, হিজরত ও আল্লাহর পথে জিহাদ। 

যে ব্যক্তি ইসলামী জামায়াত ত্যাগ করে এক বিঘত পরিমাণও দূরে সরে গেছে, সে যেন নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলেছে। অবশ্য যদি সে জামায়াতের দিকে পুনরায় প্রত্যাবর্তন করে, তবে স্বতন্ত্র কথা। আর যে ব্যক্তি জাহিলিয়াতের দিকে আহ্বান জানাবে সে, হবে জাহান্নামী।

সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নামাজ-রোজা আদায় করা সত্ত্বেও কি সে জাহান্নামী হবে?  রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ, যদিও সে নামাজ-রোজা পালন করে এবং নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করে, তাহলেও সে জাহান্নামী হবে।” (আহমাদ, হাকেম; জামি আত-তিরমিযী ২৮৬৩, গ্রেড: হাসান)। 

এই হাদিসটি শুধু একটি বাণী নয়, বরং মুসলিম সমাজের ঐক্য, নেতৃত্বের অনুসরণ এবং জাহিলিয়াতের বিরুদ্ধে সতর্কতার একটা সম্পূর্ণ গাইডলাইন। আমি যখন বিভিন্ন দেশের সামাজিক বিভক্তির খবর কভার করেছি, তখন এই হাদিসের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। আজকের এই লেখায় আমি এই হাদিসের ব্যাখ্যা, কুরআনের সমর্থিত আয়াতসমূহ, বাস্তব উদাহরণ এবং জীবনের প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করব।

 যদি আপনি ইসলামী ঐক্য এবং সাফল্যের পথ খুঁজছেন, তাহলে এই লেখাটি আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে। চলুন, গভীরে ডুব দিই।

হাদিসের পূর্ণ ব্যাখ্যা এবং সোর্স যাচাই

এই হাদিসটি সুনান তিরমিযী, মুসনাদ আহমাদ এবং মুসতাদরাক আল-হাকেমে সংকলিত, যা ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের উপর জোর দেয়। ইমাম তিরমিযী এটাকে ‘হাসান’ গ্রেড দিয়েছেন, অর্থাৎ সনদ নির্ভরযোগ্য। হাদিসে রাসূল (সা.) পাঁচটি হুকুম দিয়েছেন যা আল্লাহ তায়ালা তাঁকে দিয়েছেন: ১. জামায়াত (সম্প্রদায় বা ঐক্যবদ্ধ গ্রুপ), ২. নেতার আদেশ্রবণ (শোনা), ৩. আনুগত্য (আজ্ঞা পালন), ৪. হিজরত (স্থানান্তর), ৫. আল্লাহর পথে জিহাদ (সংগ্রাম)। এই পাঁচটি হুকুমুসলিমদের জীবনের মূল স্তম্ভ। আমি যখন এই হাদিস নিয়ে গবেষণা করেছি, তখন দেখেছি যে এটা রাসূল (সা.)-এর জীবনের সাথে সরাসরি যুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, মদীনায় হিজরতের সময় মুসলিমরা জামায়াত গঠন করে আনুগত্য দেখিয়েছিলেন, যা ইসলামের বিজয়ের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। কুরআন মজীদে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিভক্ত হয়ো না।” (সুরা আল-ইমরান: ১০৩)। এই আয়াত জামায়াতের গুরুত্ব তুলে ধরে, যা হাদিসের সাথে মিলে যায়। আমার অভিজ্ঞতায়, আধুনিক সমাজে যেখানে বিভক্তি বাড়ছে, এই হাদিস আমাদেরকে ঐক্যের দিকে ডাকে। হাদিসের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে যে জামায়াত্যাগ করলে ইসলাম ছেড়ে ফেলা, যদি না ফিরে আসে। এটা দেখিয়ে দেয় যে ইসলামে বিভক্তি সহ্য করা হয় না। আর জাহিলিয়াতের আহ্বানকারী জাহান্নামী, এমনকি নামাজ-রোজা করলেও – এটা একটা কঠোর সতর্কবাণী যে বাহ্যিক আমলের সাথে অভ্যন্তরীণ ঐক্যও দরকার।

Post a Comment

0 Comments