Advertisement

0

হাদিসের আলোকে বুদ্ধিমান ব্যক্তির সংজ্ঞা: নাফস নিয়ন্ত্রণ এবং আখিরাত প্রস্তুতি

আজ সোমবার, ১০ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

হাদিসের আলোকে বুদ্ধিমান ব্যক্তির সংজ্ঞা: নাফস নিয়ন্ত্রণ ও আখিরাত প্রস্তুতি

হাদিসে প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই, যে নাফস নিয়ন্ত্রণ করে আখিরাতের জন্য আমল করে। কুরআন-হাদিসভিত্তিক সহজ ও গভীর আলোচনা।
hadith-neighs-control-Akira

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত বুদ্ধিমান কে? দুনিয়ার চোখে বুদ্ধিমত্তা মানে জ্ঞান, সম্পদ বা সফলতা। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ ভিন্ন একটি মানদণ্ড দিয়েছেন। সুনান আত-তিরমিযী-এর একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে বলা হয়েছে:

الكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ المَوْتِ
অর্থ: বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি, যে নিজের নাফস নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে।

এই হাদিসটি আমাদের জীবনের দিকনির্দেশনা দেয়।
হাদিসের আলোকে বুদ্ধিমান ব্যক্তি নাফস নিয়ন্ত্রণ ও আখিরাতের প্রস্তুতি ইসলামিক আর্ট
নাফস নিয়ন্ত্রণই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা — হাদিসের আলোকে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতির অনুপ্রেরণা



নাফস কী
নাফস বলতে মানুষের ভেতরের খাহেশ, প্রবৃত্তি ও কুপ্রবৃত্তিকে বোঝায়। কুরআনে বলা হয়েছে:

إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ
সূরা ইউসুফ ৫৩

অর্থ: নাফস মানুষকে মন্দ কাজের দিকে ঠেলে দেয়।

নাফসের কাজ - দুনিয়ার আনন্দে আকৃষ্ট করা, গুনাহকে সহজ মনে করানো, তাওবা বিলম্বিত করা, আখিরাত ভুলিয়ে দেওয়া

নাফস নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি
আল্লাহ বলেন:

وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى
সূরা আন-নাজিয়াত ৪০-৪১

অর্থ: যে নাফসকে খাহেশ থেকে বিরত রাখে, তার ঠিকানা জান্নাত।

অর্থাৎ নাফস নিয়ন্ত্রণ মানেই জান্নাতের পথ।

আখিরাত প্রস্তুতির গুরুত্ব
কুরআনের ঘোষণা:

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ
সূরা আনকাবুত ৫৭

প্রত্যেক মানুষ মৃত্যুবরণ করবে। দুনিয়া অস্থায়ী, আখিরাত চিরস্থায়ী। তাই মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত আখিরাতমুখী জীবন।

নাফস নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়

১. নামাজ
নামাজ মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে।

২. রোজা
রোজা আত্মসংযমের বাস্তব প্রশিক্ষণ।

৩. যিকর ও কুরআন
হৃদয় নরম করে, তাকওয়া বাড়ায়।

৪. আত্মসমালোচনা
প্রতিদিনিজের হিসাব নেওয়া ঈমানকে শক্ত করে।

৫. সৎ সঙ্গ
ভালো পরিবেশ নাফস নিয়ন্ত্রণ সহজ করে।

ব্যর্থ মানুষের লক্ষণ,হাদিসে ব্যর্থ বলা হয়েছে তাকে, যে খাহেশের অনুসরণ করে, তাওবা বিলম্ব করে
আমল ছাড়া ক্ষমা আশা করে।

কুরআনে বলা হয়েছে: যারা দুনিয়াকে আখিরাতের বিনিময়ে বেছে নেয়, তারা ক্ষতিগ্রস্ত।

আধুনিক যুগে হাদিসটির গুরুত্ব
আজকের সময়ে নাফসের চ্যালেঞ্জ আরও বেশি, সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি, হারাম বিনোদন, ভোগবাদী সংস্কৃতি, দ্রুতৃপ্তির অভ্যাস।

এই বাস্তবতায় আত্মসংযমই সবচেয়ে বড় জিহাদ।

প্রতিদিনের আত্মজিজ্ঞাসা
আজ আমি কোন গুনাহ এড়ালাম, আজ আখিরাতের জন্য কী করলাম,আজ আমি আল্লাহকে কতবার স্মরণ করেছি, এই অভ্যাস মানুষকে প্রকৃত বুদ্ধিমান বানায়।

ইসলামে প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা দুনিয়ার সফলতা নয়, বরং নাফস নিয়ন্ত্রণ ও আখিরাত প্রস্তুতি। যে ব্যক্তি নিজের নাফসকে দমন করে আল্লাহর পথে চলে, সেই সত্যিকারের সফল।

আল্লাহ আমাদের নাফস পরিশুদ্ধ করার তাওফিক দিন। আমীন।


প্রশ্ন: হাদিসে বুদ্ধিমান ব্যক্তির সংজ্ঞা কী
উত্তর: যে নাফস নিয়ন্ত্রণ করে আখিরাতের জন্য আমল করে।

প্রশ্ন: নাফস নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি
উত্তর: কারণ নাফস মানুষকে গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়, নিয়ন্ত্রণ করলে জান্নাতের পথ খুলে যায়।

প্রশ্ন: নাফস নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায় কী
উত্তর: নামাজ, রোজা, যিকর, আত্মসমালোচনা ও সৎ সঙ্গ।

প্রশ্ন: হাদিসটির উৎস কী
উত্তর: সুনান আত তিরমিযী, হাদিস ২৪৫৯।

নাফস নিয়ন্ত্রণ ও আখিরাত প্রস্তুতি


Post a Comment

0 Comments