মার্চ ৩, ২০২৬-এর রক্তচন্দ্র: ঢাকায় লাল চাঁদের অপূর্ব দৃশ্য!
২০২৬ সালের ৩ মার্চ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে চাঁদ রক্তচন্দ্রে রূপান্তরিত হবে। বাংলাদেশ-ঢাকা থেকে দেখার সময়, লাল চাঁদের ছবি, বিজ্ঞানীয় কারণ ও টিপস জানুন Dhaka News। এই বিরল Blood Moon মিস করবেনা – আকাশের নাটকীয় ঘটনা!
রাতের আকাশে হঠাৎ চাঁদ গাঢ় লাল হয়ে উঠছে, যেন রক্তে রাঙানো এক গোলক। এটা কোনো কল্পনা নয়, বরং ৩ মার্চ ২০২৬-এর বাস্তব মহাজাগতিক নাটক। এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, যাকে রক্তচন্দ্র বা Blood Moon বলা হয়, বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষকে মুগ্ধ করবে। Dhaka News আমি, ২০ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে, এই ঘটনার সবকিছু খোলাসা করছি। কেন চাঁদ লাল হয়, কোথায় কখন দেখা যাবে, ঢাকায় কীভাবে দেখবেন – সব বিস্তারিত। এই মুহূর্তটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী, চাঁদ আর সূর্যের মধ্যে কতটা নিখুঁত সমন্বয় আছে। প্রস্তুত হোন, কারণ এটি বিরল এবং অবিস্মরণীয়!
![]() |
| ৩ মার্চ ২০২৬ – ঢাকার আকাশে বিরল রক্তচন্দ্র। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে লাল চাঁদের অপূর্ব দৃশ্য নজর কাড়বে আকাশপ্রেমীদের। |
চন্দ্রগ্রহণ কী এবং কেন ঘটে
চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝে সরাসরি চলে আসে। পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে, চাঁদকে অন্ধকার করে। এটি শুধু পূর্ণিমার দিনই সম্ভব, কারণ তখন তিনটি জ্যোতিষ্ক এক সরলরেখায় থাকে।
চন্দ্রগ্রহণের প্রকারভেদ
পেনামব্রাল চন্দ্রগ্রহণ: চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়ায় (পেনামব্রা) প্রবেশ করে – খুব অস্পষ্ট।
আংশিক চন্দ্রগ্রহণ: চাঁদের কিছু অংশ গাঢ় ছায়ায় (উমব্রা) ঢেকে যায়।
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: পুরো চাঁদ উমব্রায় প্রবেশ করে – সবচেয়ে নাটকীয়।
৩ মার্চ ২০২৬-এর গ্রহণটি পূর্ণগ্রাস, যার totality (পূর্ণ ছায়া) ৫৮ মিনিট স্থায়ী। এর ম্যাগনিচুড ১.১৫২৬, যা গভীরতা নির্দেশ করে।
কেন চাঁদ লাল হয় – রক্তচন্দ্রের বিজ্ঞান
পূর্ণগ্রাসে চাঁদ অন্ধকার হওয়ার কথা, কিন্তু লাল দেখায় কারণ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে বাঁকিয়ে চাঁদে পাঠায়। নীল আলো ছড়িয়ে পড়ে (রেলে স্ক্যাটারিং), লাল আলো পৌঁছে। এটি একই কারণ যা সূর্যাস্তকে লাল করে।
বায়ুমণ্ডলে ধুলো বা আগ্নেয়গিরির ছাই থাকলে লাল আরও গাঢ় হয়। নাসার বিজ্ঞানীরা বলেন, এই গ্রহণে আবহাওয়া অনুকূল হলে উজ্জ্বল রক্তচন্দ্র দেখা যাবে। উদাহরণ: ২০১৮-এর দীর্ঘতম গ্রহণে সাহারা ধুলোর কারণে চাঁদ গাঢ় লাল ছিল।
বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমানতা ও সময়সূচী
এই গ্রহণ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগর এবং উত্তর আমেরিকায় ভালো দেখা যাবে। ইউরোপ-আফ্রিকায় দিনের বেলা হওয়ায় দেখা যাবে না। প্রায় অর্ধেক পৃথিবীর মানুষ এর কোনো অংশ দেখতে পাবে।
UTC সময়সূচী
পেনামব্রাল শুরু: ০৮:৪৪ UTC
আংশিক শুরু: ০৯:৫০ UTC
পূর্ণগ্রাস শুরু: ১১:০৪ UTC
সর্বোচ্চ (ম্যাক্সিমাম): ১১:৩৩ UTC
পূর্ণগ্রাস শেষ: ১২:০৩ UTC
আংশিক শেষ: ১৩:১৭ UTC
পেনামব্রাল শেষ: ১৪:২৩ UTC
সামগ্রিক: ৫ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট।
ঢাকা ও বাংলাদেশে দেখার বিস্তারিত গাইড
বাংলাদেশে (BST = UTC+6) গ্রহণ দৃশ্যমান, কিন্তু চাঁদোদয়ের সময় পূর্ণগ্রাস প্রায় শেষ।
ঢাকায় সময়
চাঁদোদয়: সন্ধ্যা ৫:৫৯ pm
পূর্ণগ্রাস শেষ: প্রায় ৬:০২ pm (চাঁদোদয়ের ৩ মিনিট পর)
গ্রহণ শেষ: রাত ৮:২৩ pm
অর্থাৎ চাঁদ উঠতেই লালচে দেখা যাবে কয়েক মিনিট, তারপর আংশিক ছায়া থেকে বেরিয়ে আসবে। হরাইজনের কাছে থাকায় লাল আভা আরও নাটকীয় লাগবে।
দেখার সেরা টিপস
উঁচু জায়গা বেছে নিন – ছাদ, পাহাড় বা খোলা মাঠ।
আবহাওয়া চেক করুন – মেঘমুক্ত আকাশ দরকার।
বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করুন – বিস্তারিত ক্রেটার দেখা যাবে।
খালি চোখে নিরাপদ – কোনো গ্লাস লাগবে না।
ছবি তুলতে চাইলে ট্রাইপড ও লং এক্সপোজার ব্যবহার করুন।
চট্টগ্রাম বা সিলেটে সময় অনুরূপ, কিন্তু স্থানীয় হরাইজন অনুযায়ী সামান্য পার্থক্য হতে পারে। মেঘ থাকলে নাসার লাইভ স্ট্রিম দেখুন।
চন্দ্রগ্রহণের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
প্রাচীনকালে চন্দ্রগ্রহণকে অশুভ মনে করা হতো। ব্যাবিলোনিয়ানরা রাজাদের জন্য সতর্কতা হিসেবে দেখত। ভারতীয় পুরাণে রাহু-কেতু চাঁদ গিলে ফেলে বলে বিশ্বাস। বাংলাদেশ-ভারতে অনেকে গ্রহণে উপবাস বা বিশেষ পূজা করেন।
আধুনিক যুগে এটি বিজ্ঞানের উৎসব – NASA এর লাইভ কভারেজ, অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাবের ওয়াচ পার্টি। এই গ্রহণ ২০২৮-এর নিউ ইয়ার্স Blood Moon পর্যন্ত শেষ পূর্ণগ্রাস।
কেন এই গ্রহণ বিশেষ
৫৮ মিনিটের totality – যথেষ্ট দীর্ঘ।
অর্ধেক পৃথিবীতে দৃশ্যমান।
বাংলাদেশে চাঁদোদয়ের সাথে মিলে যাওয়ায় রোমাঞ্চকর।
৩ মার্চ ২০২৬ একটি অবিস্মরণীয় রাত। পরিবার-বন্ধু নিয়ে আকাশের দিকে তাকান, লাল চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করুন। এই মুহূর্তগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা বিশাল মহাবিশ্বের অংশ। Dhaka News পাঠকদের জন্য শুভকামনা – আকাশ পরিষ্কার থাকুক!
আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন – ছবি, ভিডিও বা মতামত কমেন্টে দিন। লাইক-শেয়ার করুন যাতে সবাই জানতে পারে। আরও আপডেটের জন্য সাবস্ক্রাইব করুন!
প্রশ্ন: ঢাকায় কখন লাল চাঁদ দেখা যাবে?
উত্তর: চাঁদোদয় ৫:৫৯PM, পূর্ণগ্রাস শেষ ৬:০২PM – তাই উঠতেই লালচে দেখা যাবে।
প্রশ্ন: বিশেষ যন্ত্র লাগবে?
উত্তর: না, খালি চোখে নিরাপদ। বাইনোকুলার ভালো অভিজ্ঞতা দেবে।
প্রশ্ন: এরপর কবে পূর্ণগ্রাস?
উত্তর: ২০২৮ সালের শেষে।
প্রশ্ন: মেঘ থাকলে কী করব?
উত্তর: NASA বা TimeandDate-এর লাইভ দেখুন।
আরও জানতে চাইলে কমেন্ট করুন – Dhaka News সবসময় আপনার পাশে!

0 Comments