ট্রাম্পের শুল্কে সুপ্রিম কোর্টেরায়: বাংলাদেশের লাভ কত?
২০২৬ সালে ট্রাম্পের গ্লোবাল ট্যারিফ অবৈধ ঘোষণা করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। নতুন ১০% শুল্কের প্রভাবাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে কী? BMG রফতানি, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ কৌশল জানুন Dhaka News। এই পরিবর্তন মিস করবেনা!
কল্পনা করুন, একটি রায় যা বিশ্ব অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে। ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুইপিং ট্যারিফকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এটি শুধু আমেরিকার অভ্যন্তরীণ লড়াই নয়, বরং বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। Dhaka News আমি, ২০ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংবাদ লিখে চলেছি, এই ঘটনার সব দিক খুঁটিয়ে দেখব। ট্রাম্পের নতুন ১০% শুল্ক ঘোষণা, বাংলাদেশের BMG সেক্টরের প্রভাব, চুক্তির ভবিষ্যৎ—সবকিছু বিস্তারিত। এই পরিবর্তন আমাদের অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে? চলুন জেনে নিই।
![]() |
| ট্রাম্পের শুল্ক সিদ্ধান্তে নতুন মোড়, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিশ্ববাণিজ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি ও অর্থনীতিতে লাভের সম্ভাবনা নিয়ে চলছে আলোচনা। |
ট্রাম্পের শুল্কনীতির পটভূমি
ট্রাম্পের দ্বিতীয় টার্ম শুরু হয়েছে 'আমেরিকা ফার্স্ট' স্লোগানিয়ে। ২০২৫ সালের শুরুতে তিনি আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক্ষমতা আইন (IE EPA) ব্যবহার করে বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমদানিতে ১০-২০% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন। এটি 'লিবারেশন ডে' ট্যারিফ নামে পরিচিত হয়। লক্ষ্য ছিল আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করা। কিন্তু এটি বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
শুল্কের প্রকারভেদ এবং প্রভাব
রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ: দেশভিত্তিক পাল্টা শুল্ক, যেমন বাংলাদেশের ওপর ৩৫% থেকে কমিয়ে ২০% করা হয়।
গ্লোবাল ট্যারিফ: সব দেশের জন্য একই হার, যা IE EPARCH অধীনে ছিল।
এই শুল্কের ফলে আমেরিকায় বাংলাদেশী পোশাকের দাম বেড়ে যায়, ক্রেতারা ভিয়েতনাম বা ভারতে ঝুঁকে পড়ে। ফলে আমাদের রফতানি ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যে ঝুঁকিতে পড়ে।
সুপ্রিম কোর্টেরায়ের বিস্তারিত
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ রুলিংয়ে বলেছে যে IE EPA প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না—এটি কংগ্রেসের অধিকার। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বে এই রায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিকৌশলকে বড় ধাক্কা দেয়। রায়ে বলা হয়েছে, এটি জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে অর্থনৈতিক জবরদস্তি। ফলে সব SEEPAGEিত্তিক শুল্ক অবৈধ, এবং রিফান্ডের সম্ভাবনা খোলা।
বাংলাদেশের প্রভাব: লাভ না ক্ষতি?
বাংলাদেশের জন্য পূর্ববর্তী ২০% রেসিপ্রোকাল শুল্ক (যা বিদ্যমান ১৬.৫% এর সাথে ৩৬.৫% করত) এখন ১০% + ১৬.৫% = ২৬.৫% হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে লাভ, কারণ শুল্ক কমেছে। কিন্তু ১৫০ দিনের তদন্তে যদি শ্রমিক অধিকার বা পরিবেশে সমস্যা পাওয়া যায়, তাহলে বাড়তে পারে। BGMEA সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "এটি অনিশ্চিত, কখন কী হয় বলা যায় না।" রফতানিকারকরা সতর্ক আশাবাদী।
চুক্তির ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে আমেরিকা থেকে তুলা, সয়াবিন, বিমান কেনার শর্ত ছিল। হোয়াইট হাউস বলছে, শুল্ক পরিবর্তন হলেও চুক্তি বহাল। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি 'অসম' ছিল, এখন পর্যালোচনার সুযোগ। যদি তদন্তে পাস করি, শুল্ক শূন্যে নামতে পারে। উদাহরণ: ২০১৮-এর ট্রাম্প-চায়না ট্রেড ওয়ারে অনুরূপ অনিশ্চয়তা ছিল।
বাংলাদেশের করণীয়
শ্রমিক অধিকার উন্নয়ন: ফ্যাক্টরিতে সেফটি, বেতন বাড়ানো। পরিবেশ কমপ্লায়েন্স: দূষণ কমানো, সাসটেইনেবল প্র্যাকটিস। ডাইভার্সিফিকেশন: ইউরোপ, জাপানে রফতানি বাড়ানো।
ড. জাহিদ হোসেনের পরামর্শ: "চুপ থেকে প্রস্তুতি নিন, আলোচনার জন্য অপেক্ষা করুন।" বাংলাদেশের কমার্স মিনিস্ট্রি চুক্তি পর্যালোচনা করছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
এই রায় $১৬০ বিলিয়ন ট্যারিফ রিফান্ডের দরজা খুলেছে। কোম্পানিগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা, কিন্তু কনজুমারদের জন্য স্বস্তি। চীন, ইইউ, ভারতের মতো দেশও প্রভাবিত। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের অনুমানে, এটি ইনফ্লেশন কমাতে সাহায্য করবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রাচীনকাল থেকে শুল্ক বাণিজ্যুদ্ধের অস্ত্র। ১৯৩০-এর স্মুট-হাওলি অ্যাক্ট গ্রেট ডিপ্রেশনকে ত্বরান্বিত করেছিল। ট্রাম্পের প্রথম টার্মে চায়না ট্যারিফ অনুরূপ ছিল। এখন সেকশন ৩০১ তদন্ত শুরু হতে পারে, যা দেশভিত্তিক শুল্ক বাড়াতে পারে।
কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: বাংলাদেশের GDP৮০% রফতানি-নির্ভর।
চাকরি: BMG সেক্টরে ৪০ লাখ কর্মী।
ভবিষ্যৎ: যদি শুল্ক বাড়ে, রফতানি ২০% কমতে পারে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ একটি নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। বাংলাদেশের জন্য স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জ। প্রস্তুতি নেয়া দরকার—শ্রমিক অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বৈচিত্র্যকরণ। Dhaka News পাঠকদের জন্য শুভকামনা: এই সুযোগকে কাজে লাগান!
আপনার মতামত শেয়ার করুন—কমেন্টে লিখুন কী ভাবছেন। লাইক, শেয়ার করুন যাতে সবাই জানতে পারে। আরও আপডেটের জন্য সাবস্ক্রাইব করুন Dhaka News!
![]() |
| ট্রাম্পের শুল্কে নতুন বিতর্ক, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিশ্ববাণিজ্যে প্রভাব। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানিতে লাভ কত হতে পারে তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। |
প্রশ্ন: সুপ্রিম কোর্টেরায় কী বলছে?
উত্তর: IE EPARCH অধীনে ট্রাম্পের ট্যারিফ অবৈধ, ক্ষমতা কংগ্রেসের।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের শুল্ক এখন কত?
উত্তর: ১০% + বিদ্যমান ১৬.৫% = ২৬.৫%, পূর্বের ৩৬.৫% থেকে কম।
প্রশ্ন: চুক্তি বাতিল হবে?
উত্তর: না, কিন্তু পর্যালোচনায়। শর্তগুলো বহাল থাকবে।
প্রশ্ন: কী করবে বাংলাদেশ?
উত্তর: অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন করে তদন্তের জন্য প্রস্তুত হোন।
আরও প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন—Dhaka News সবসময় আপনার সাথে!

.jpg)
0 Comments