আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ই বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই যিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
হযরত হুদ (আ.) ও আদ জাতির ধ্বংস: পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাতির ভয়াবহ পরিণতি
মানব ইতিহাসে এমন একটি জাতি ছিল, যাদের শারীরিক শক্তি, সমৃদ্ধি ও স্থাপত্যকলা ছিল কল্পনাতীত। উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় বিশাল প্রাসাদ, দীর্ঘকায় দেহ, অপরিসীম সম্পদ এবং অজেয় সামরিক শক্তি ছিল তাদের পরিচয়। সেই অহংকারী জাতিকে সঠিক পথে আনার জন্যই মহান আল্লাহ পাঠিয়েছিলেন এক মহান নবীকে—যাঁর নাম হযরত হুদ আলাইহিসালাম। হযরত হুদ আলাইহিসালাম এর ঘটনা শুধু একটি ধর্মীয় কাহিনী নয়, এটি অহংকার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আল্লাহর শাস্তির এক শাশ্বত শিক্ষা। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি আদ-এর উত্থান ও পতনের এই ইতিহাস আজও মানবজাতিকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
![]() |
| পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিও রক্ষা পায়নি আল্লাহর শাস্তি থেকে। হযরত হুদ (আ.) ও আদ জাতির ধ্বংসের ইতিহাস আজও মানবজাতির জন্য এক বড় শিক্ষা। |
আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তুলে ধরব হযরত হুদ আঃ এর জীবনী, তাঁর দাওয়াতি কার্যক্রম, কওমে আদ এর বিদ্রোহ এবং আদ জাতির ধ্বংসের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
হযরত হুদ আলাইহিসালাম: পরিচয় ও বংশ পরিচিতি
হযরত হুদ আলাইহিসালাম ছিলেন হযরত নূহ আলাইহিসালামের পর প্রেরিত অন্যতম প্রধান নবী। ইসলামি ঐতিহাসিক গ্রন্থ অনুসারে, তাঁর পূর্ণ নাম ছিল হুদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে রিবাহ ইবনে জারূদ ইবনে আদ ইবনে আউস ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নূহ আলাইহিসালাম। অর্থাৎ তিনি নিজেই ছিলেন আদ জাতির বংশধর।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সরাসরি একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন তাঁর নামে—সূরা হুদ। এছাড়াও সূরা আল-আরাফ, সূরা আশ-শুআরা, সূরা ফুসসিলাত, সূরা আল-আহকাফ এবং সূরা আল-হাক্কাহ-এ তাঁর কাহিনী বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই বহুমুখী উল্লেখ প্রমাণ করে যে তাঁর দাওয়াতের বার্তা মানবজাতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
কওমে আদ: পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি
আদ জাতি ছিল প্রাচীন আরবের আল-আহকাফ অঞ্চলে বসবাসকারী এক প্রতাপশালী সম্প্রদায়। বর্তমান ইয়েমেন ও ওমানের মধ্যবর্তী মরু অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। কোরআনের ভাষায় তারা ছিল “ইরাম জাতুল ইমাদ”—অর্থাৎ উঁচু উঁচু স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম শহরের অধিবাসী।
শারীরিক শক্তি ও স্থাপত্য
আদ জাতির মানুষেরা ছিল অস্বাভাবিক দীর্ঘকায়। বর্ণনা অনুযায়ী, তাদের গড় উচ্চতা ছিল ৬০ থেকে ১০০ হাত পর্যন্ত। তারা পাহাড় কেটে ঘর বানাতো, বিশাল বিশাল প্রাসাদ তৈরি করত, এবং এমন সব স্থাপত্য নির্মাণ করত যা তৎকালীন পৃথিবীর কোনো জাতি করতে পারেনি। আল্লাহ কোরআনে বলেন: “তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা প্রত্যেক উঁচু স্থানে অযথা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছ?” (সূরা আশ-শুআরা: ১২৮)
সম্পদ ও কৃষি
আল-আহকাফ অঞ্চলে তখন প্রচুর বৃষ্টিপাত হতো, ফলে সেখানে ঘন বনাঞ্চল, উর্বর কৃষিজমি এবং পশুপালনের জন্য বিস্তৃত চারণভূমি ছিল। বাগান, ঝর্ণা ও উদ্যানে ভরপুর ছিল তাদের ভূখণ্ড। অর্থনৈতিকভাবে তারা ছিল আত্মনির্ভর ও বিলাসবহুল জীবনের অধিকারী।
আরও পড়ুন > নহরে জুবাইদা: ইসলামের ইতিহাসে এক মহীয়সী নারীর অমর প্রকৌশল ও ত্যাগের মহাকাব্য
আরও পড়ুন > ইতিহাসের অন্যান্য দৈত্যাকার মানুষের অবিশ্বাস্য গল্প
হযরত হুদ আঃ এর দাওয়াত ও আদ জাতির অস্বীকার
আদ জাতি যখন ক্ষমতা ও সম্পদের অহংকারে আল্লাহকে ভুলে গিয়ে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হলো, তখন আল্লাহ তাদের মধ্য থেকেই হযরত হুদ আঃ-কে নবী হিসেবে নির্বাচিত করলেন। তিনি তাঁদেরই গোত্রভুক্ত একজন বিশ্বস্ত, সৎ ও পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন।
একত্ববাদের আহ্বান
হযরত হুদ আঃ তাঁর জাতিকে আহ্বান জানালেন: “হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ নেই।” (সূরা আল-আরাফ: ৬৫)। তিনি তাদের বোঝালেন—যে আল্লাহ তোমাদের এই শক্তি, সম্পদ ও সমৃদ্ধি দিয়েছেন, কেবল তাঁরই উপাসনা করা উচিত। মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করে একত্ববাদের পথে ফিরে আসাই হবে প্রকৃত মুক্তির পথ।
দাওয়াতের প্রতি অবজ্ঞা
কিন্তু আদ জাতির নেতারা হুদ আঃ-কে উপহাস করল। তারা বলল: “আমরা তো তোমাকে নির্বুদ্ধিতায় নিমজ্জিত দেখছি এবং আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।” (সূরা আল-আরাফ: ৬৬)। তারা তাঁর দাওয়াতকে পাগলামি বলে উড়িয়ে দিল এবং তাদের পূর্বপুরুষদের প্রথা ছাড়তে অস্বীকার করল।
হযরত হুদ আঃ ধৈর্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে গেলেন। তিনি তাদের স্মরণ করিয়ে দিলেন—আল্লাহ পূর্ববর্তী নূহ আঃ-এর জাতিকে কীভাবে মহাপ্লাবন দিয়ে ধ্বংস করেছিলেন। কিন্তু আদ জাতি ছিল অহংকারে অন্ধ।
আদ জাতির ধ্বংসের কারণ ও আল্লাহর শাস্তির পূর্বাভাস
হযরত হুদ আঃ যখন দেখলেন তাঁর জাতি সত্যকে গ্রহণ করতে চাইছে না, তখন তিনি আল্লাহর শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করলেন। তিনি বললেন: “আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, আর তোমরাও সাক্ষী থেকো যে, আমি অংশীদারমুক্ত। তোমরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করো এবং আমাকে অবকাশ দিও না।” (সূরা হুদ: ৫৪-৫৫)।
আদ জাতির ধ্বংসের প্রধান কারণগুলো ছিল:
প্রথমত, আল্লাহর সাথে শিরক ও মূর্তিপূজা। দ্বিতীয়ত, ক্ষমতা ও সম্পদের অহংকার। তৃতীয়ত, নবীর প্রতি অবজ্ঞা ও দাওয়াত প্রত্যাখ্যান। চতুর্থত, দুর্বলদের প্রতি অত্যাচার ও সামাজিক অবিচার। পঞ্চমত, পার্থিব ভোগবিলাসে নিমগ্ন থেকে আখিরাতকে অস্বীকার।
খরা ও দুর্ভিক্ষের পূর্বাভাস
আল্লাহর শাস্তির প্রথম পর্যায় ছিল দীর্ঘস্থায়ী খরা। টানা তিন বছর ধরে আদ জাতির ভূখণ্ডে এক ফোঁটা বৃষ্টিও হলো না। সবুজ-শ্যামল আল-আহকাফ পরিণত হলো শুষ্ক মরুভূমিতে। তারা তাদের দেবতাদের কাছে বৃষ্টির জন্য ফরিয়াদ করতে লাগল, কিন্তু কোনো ফল পেল না।
ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়: আদ জাতির ধ্বংসের চূড়ান্ত মুহূর্ত
দীর্ঘ খরার পর আকাশে যখন কালো মেঘ দেখা দিল, আদ জাতি আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠল। তারা ভাবল—অবশেষে বৃষ্টি আসছে। কিন্তু হযরত হুদ আঃ তাদের সতর্ক করে বললেন—এটি বৃষ্টি নয়, এটি আল্লাহর শাস্তি।
কোরআনে বর্ণিত হয়েছে: “যখন তারা শাস্তিকে মেঘরূপে তাদের উপত্যকার দিকে আসতে দেখল, তখন বলল, এই মেঘ আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবে। বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে। এটা বায়ু, যাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা আল-আহকাফ: ২৪)।
সাত রাত আট দিনের প্রলয়ংকরী ঝড়
আল্লাহ আদ জাতির উপর প্রেরণ করলেন এক ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়—যাকে কোরআনে বলা হয়েছে “রীহুন সরসারুন আতিয়াহ” (প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত শীতল ঝড়)। সূরা আল-হাক্কাহ-এ আল্লাহ বলেন: “আল্লাহ তা সাত রাত ও আট দিন প্রবলবেগে তাদের উপর প্রবাহিত করলেন। তুমি তাদেরকে দেখতে সেখানে অসার খেজুরের কাণ্ডের মতো লুটিয়ে পড়ে আছে।” (সূরা আল-হাক্কাহ: ৭)।
এই ঝড় এতটাই শক্তিশালী ছিল যে—দীর্ঘকায় শক্তিশালী আদ জাতির মানুষদের মাটি থেকে উঠিয়ে নিয়ে দূরে আছড়ে ফেলত। তাদের বিশাল প্রাসাদগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। সাত রাত ও আট দিন পর যখন ঝড় থামল, তখন পুরো আদ জাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। শুধু হযরত হুদ আঃ এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনা মুষ্টিমেয় কয়েকজন অনুসারী আল্লাহর রহমতে রক্ষা পেলেন।
ইরাম শহর: হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণনগরী
কোরআনে বর্ণিত “ইরাম জাতুল ইমাদ” বা স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম শহর দীর্ঘকাল ধরেই ঐতিহাসিকদের কৌতূহলের বিষয় ছিল। ১৯৯২ সালে নাসার স্যাটেলাইট ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলে “উবার” নামক একটি প্রাচীন শহরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়, যাকে অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদ ইরাম শহরের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। এই আবিষ্কার ইরাম শহরের ইতিহাস সম্পর্কে কোরআনিক বর্ণনার সত্যতাকেই আরও জোরালো করেছে।
হযরত হুদ আঃ এর ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা
হযরত হুদ আঃ এর জীবনী ও তাঁর জাতির ধ্বংসের ইতিহাস থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি: প্রথমত, ক্ষমতা ও সম্পদ চিরস্থায়ী নয়। যত শক্তিশালী জাতিই হোক না কেন, আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের কোনো ক্ষমতাই কাজে আসে না। দ্বিতীয়ত, অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে। আদ জাতির পতনের মূল কারণ ছিল তাদের অহংকার। তৃতীয়ত, সত্যের দাওয়াত প্রত্যাখ্যানের পরিণতি ভয়াবহ। চতুর্থত, ধৈর্য ও অবিচলতা নবীদের শ্রেষ্ঠ গুণ—হুদ আঃ বছরের পর বছর ধৈর্যের সাথে দাওয়াত দিয়ে গিয়েছেন। পঞ্চমত, প্রকৃতির শক্তি আল্লাহরই সৃষ্টি, যা মুহূর্তেই সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে।
আধুনিক যুগে যখন বিভিন্ন পরাশক্তি নিজেদের অজেয় মনে করছে, পরিবেশ ধ্বংস করছে, দুর্বল জাতিগুলোকে নিপীড়ন করছে—তখন আদ জাতির ইতিহাস আমাদের জন্য এক শক্তিশালী সতর্কবার্তা।
হযরত হুদ আঃ এর সমাধি
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুসারে, হযরত হুদ আঃ-এর সমাধি ইয়েমেনের হাদ্রামাউত প্রদেশে অবস্থিত বলে মনে করা হয়। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিম তীর্থযাত্রীরা সেখানে যিয়ারতের জন্যান। তবে তাঁর সমাধির সঠিক অবস্থানিয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
প্রশ্ন ১: হযরত হুদ আঃ কোন জাতির নবী ছিলেন?
উত্তর: হযরত হুদ আঃ ছিলেন আদ জাতির নবী, যারা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি আদ হিসেবে পরিচিত ছিল এবং আরবের আল-আহকাফ অঞ্চলে বসবাস করত।
প্রশ্ন ২: আদ জাতির ধ্বংসের কারণ কী ছিল?
উত্তর: আদ জাতির ধ্বংসের প্রধান কারণ ছিল আল্লাহর সাথে শিরক, মূর্তিপূজা, ক্ষমতার অহংকার, নবীর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান এবং সামাজিক অবিচার।
প্রশ্ন ৩: আদ জাতির উপর কী ধরনের শাস্তি এসেছিল?
উত্তর: আল্লাহ তাদের উপর সাত রাত ও আট দিন ধরে এক প্রচণ্ড শীতল ঘূর্ণিঝড় প্রেরণ করেন, যা পুরো জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়।
প্রশ্ন ৪: কোরআনে হুদ আলাইহিসালামের বর্ণনা কোন কোন সূরায় আছে?
উত্তর: সূরা হুদ, সূরা আল-আরাফ, সূরা আশ-শুআরা, সূরা ফুসসিলাত, সূরা আল-আহকাফ এবং সূরা আল-হাক্কাহ-এ হযরত হুদ আঃ-এর ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৫: ইরাম শহরের ইতিহাস কী?
উত্তর: ইরাম ছিল আদ জাতিরাজধানী, যেটি “স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম” নামে কোরআনে উল্লেখিত। ১৯৯২ সালে নাসার স্যাটেলাইটে ওমানে এর সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে।
প্রশ্ন ৬: হযরত হুদ আঃ-এর সমাধি কোথায়?
উত্তর: ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, তাঁর সমাধি ইয়েমেনের হাদ্রামাউত প্রদেশে অবস্থিত বলে মনে করা হয়, যদিও এ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
হযরত হুদ আলাইহিসালাম এর ঘটনা আমাদের শেখায়—যত বড় শক্তিই হোক, আল্লাহর ইচ্ছার সামনে তা তুচ্ছ। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি আদ-এর ধ্বংস প্রমাণ করে, অহংকার ও সত্য প্রত্যাখ্যানের পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আজকের পৃথিবীতে যখন মানুষ ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও সম্পদের অহংকারে মত্ত, তখন এই ঘটনা আমাদের জন্য এক চিরন্তন শিক্ষা।
আপনার মতামত আমাদের জানান—হযরত হুদ আঃ-এর ঘটনা থেকে আপনি কোন শিক্ষাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন? কমেন্টে লিখুন এবং এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করে অন্যদেরও জানার সুযোগ করে দিন। ঢাকা নিউজের সাথে থাকুন আরও তথ্যবহুল ইসলামি ইতিহাস ভিত্তিক প্রতিবেদনের জন্য।
লেখক: মোঃ আমিরুল ইসলাম অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক। ইসলামি ইতিহাস, সমকালীন সমাজ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। বর্তমানে ঢাকা নিউজের সিনিয়র কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কর্মরত।
সূত্র: ১. পবিত্র কোরআন—সূরা হুদ, সূরা আল-আরাফ, সূরা আশ-শুআরা, সূরা আল-আহকাফ, সূরা আল-হাক্কাহ, সূরা ফুসসিলাত ২. তাফসীর ইবনে কাসীর ৩. কাসাসুল আম্বিয়া—ইবনে কাসীর ৪. আল-বিদায়া ওয়ানিহায়া—ইবনে কাসীর ৫. NASA Archaeological Discovery of Bar (1992) ৬. Encyclopedia of Islam—Brill Publications
ইমেজ অল্টেক্সট সাজেশন: "হযরত হুদ আলাইহিসালাম এর ঘটনা ও আদ জাতির ধ্বংসের ইতিহাস—মরুভূমিতে প্রাচীন স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রতীকী চিত্র"
JSON-LD Schema:
[
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "News Article",
"headline": "পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাতির নবী হযরত হুদ আলাইহিসালাম এর ঘটনা: ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়",
"description": "পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হযরত হুদ আলাইহিসালাম এর ঘটনা, দাওয়াত, আদ জাতির ধ্বংস ও কোরআনের বর্ণনা জানুন বিস্তারিতভাবে।",
"image": "https://mirpurhdakanewsbd.blogspot.com/images/hud-as-story.jpg",
"author": {
"@type": "Person",
"name": "মোঃ আমিরুল ইসলাম",
"job Title": "সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক"
},
"publisher": {
"@type": "Organization",
"name": "Dhaka News",
"logo": {
"@type": "Image Object",
"URL": "https://mirpurhdakanewsbd.blogspot.com/logo.png"
}
},
"date Published": "2026-05-07",
"date Modified": "2026-05-07",
"mainEntityOfPage": {
"@type": "Webpage",
"@id": "https://mirpurhdakanewsbd.blogspot.com/"
}
},
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "FAQ Page",
"main Entity": [
{
"@type": "Question",
"name": "হযরত হুদ আঃ কোন জাতির নবী ছিলেন?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "হযরত হুদ আঃ ছিলেন আদ জাতির নবী, যারা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি আদ হিসেবে পরিচিত ছিল এবং আরবের আল-আহকাফ অঞ্চলে বসবাস করত।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "আদ জাতির ধ্বংসের কারণ কী ছিল?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "আদ জাতির ধ্বংসের প্রধান কারণ ছিল আল্লাহর সাথে শিরক, মূর্তিপূজা, ক্ষমতার অহংকার, নবীর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান এবং সামাজিক অবিচার।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "আদ জাতির উপর কী ধরনের শাস্তি এসেছিল?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "আল্লাহ তাদের উপর সাত রাত ও আট দিন ধরে এক প্রচণ্ড শীতল ঘূর্ণিঝড় প্রেরণ করেন, যা পুরো জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "কোরআনে হুদ আলাইহিসালামের বর্ণনা কোন কোন সূরায় আছে?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "সূরা হুদ, সূরা আল-আরাফ, সূরা আশ-শুআরা, সূরা ফুসসিলাত, সূরা আল-আহকাফ এবং সূরা আল-হাক্কাহ-এ হযরত হুদ আঃ-এর ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "ইরাম শহরের ইতিহাস কী?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "ইরাম ছিল আদ জাতিরাজধানী, যেটি স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম নামে কোরআনে উল্লেখিত। ১৯৯২ সালে নাসার স্যাটেলাইটে ওমানে এর সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "হযরত হুদ আঃ-এর সমাধি কোথায়?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, তাঁর সমাধি ইয়েমেনের হাদ্রামাউত প্রদেশে অবস্থিত বলে মনে করা হয়, যদিও এ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।"
}
}
]
}
]

0 Comments