Advertisement

0

একজন মানুষ অবহেলা ও অর্থনির্ভর সম্পর্কের বাস্তব গল্প

 রবিবার ২৫শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৮ই জুন ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১১ই জ্বিলহজ্জ ১৪৪৬ হিজরি, গ্রীষ্ম-কাল

অর্থহীন হয়ে পড়া এক জামাইয়ের মর্মান্তিক বাস্তব অভিজ্ঞতা। ভালোবাসা নয়, টাকাই যেন সব। 

একজন মানুষ অবহেলা ও অর্থনির্ভর সম্পর্কের বাস্তব গল্প
একজন মানুষ অবহেলা ও অর্থনির্ভর সম্পর্কের বাস্তব গল্প


অর্থহীন হলে সম্পর্কের মূল্যও থাকে না

মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন আপনজন বলে যাদের বিশ্বাস করি, তাদের চোখে নিজের প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারি। ভালোবাসা, আত্মত্যাগ কিংবা সম্পর্ক — সবই যেন অর্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে পড়ে। এমনই এক করুণ বাস্তবতার গল্প আজ তুলে ধরছি, একজন জামাইয়ের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে।

আত্মত্যাগের গল্প: শুরুটা ছিল শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভরা
এক সময় এই জামাই তার শ্বশুরবাড়িকে নিজের পরিবার ভেবে নিয়েছিলেন। যখন তার শ্বশুর মারা যান, তখন পরিবারটি দারিদ্র্যের চরম সীমায়। পাঁচটি শিশু সন্তানিয়ে শাশুড়ি ছিলেন একেবারে অসহায়। সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকা ঘরটিও ভেঙে দিলে পরিবারটি যেন বাঁচার শেষ আশাটুকুও হারিয়ে ফেলেছিল।

সেই সময় এই জামাই দায়িত্ব নেন পরিবারের। তিনি নিজের কাঁধে তুলে নেন পরিবারের ভরণপোষণ, খরচ চালান পড়াশোনার, বিয়ের দায়িত্ব নেন শালী ও শালাদের, এমনকি একজন শালীকে ডিগ্রি পর্যন্ত পড়ান। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অকাতরে এই দায়িত্ব পালন করেন।

তখন তার কদর ছিলো সবার চোখে। সন্তানরা পেত রাজপুত্র -রাজকন্যার মর্যাদা। তিনি ছিলেন পরিবারের শ্রদ্ধেয় সদস্য।

দুর্ঘটনার পর বদলে গেল সম্পর্কের রঙ
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ঘটে একটি বাইক দুর্ঘটনায়। তিনি মারাত্মক আহত হয়ে পড়েন এবং টানা ৬ বছর ধরে চিকিৎসাধীন। অথচ এতদিনের সেই প্রিয় শ্বশুরবাড়ি আর একবারও খোঁজ নেয়নি তারা।

না দেখা, না ফোন, না খোঁজ—সব সম্পর্ক যেন এক ঝটকায় মুছে গেল। সন্তানেরা বেঁচে আছে কি না, খেয়ে আছে কি না—জানার প্রয়োজনও তারা অনুভব করেনি। এমন অবহেলা, এমন নির্লজ্জ উপেক্ষা — কল্পনা করাও কঠিন।

টাকার মর্যাদা, মানুষের নয়
এই অভিজ্ঞতা অনেককে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়: যতদিন পকেটে টাকা আছে, ততদিন আপনি প্রিয়। আপনার ভালোবাসা, ত্যাগ, শ্রম—সবকিছুই তখন মূল্যবান। কিন্তু আপনি অর্থহীন হয়ে পড়লেই সম্পর্কের আসল রূপ বেরিয়ে আসে।

এখানেই প্রশ্ন ওঠে—এ কেমন সম্পর্ক?
 যেখানে ভালোবাসা নেই, কৃতজ্ঞতা নেই, শুধুই স্বার্থ আর অর্থের লেনদেন!

শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক: সতর্কতা না অবহেলা?
এই অভিজ্ঞতা কোনো একক ঘটনা নয়। অনেক জামাই তাদের শ্বশুর-শাশুড়িকে মা-বাবা জ্ঞান করেন, শালী-শালাকে ভাই-বোন মনে করেন। কিন্তু প্রতিদানে তারা সেই মর্যাদা পানা।

 এমন অভিজ্ঞতা কি শুধুই নোয়াখালীর?

 নাকি সারা দেশজুড়ে এমন বাস্তবতা ছড়িয়ে আছে?

সম্পর্ক রাখা ভুল নয়, তবে নিজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা আরও বড় ভুল।

উপসংহার
মানুষ যখন দুঃখের সময় পাশে থাকা মানুষদের চিনে নেয়, তখন সম্পর্কের সত্যিকারূপ ধরা পড়ে। অর্থের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সম্পর্ক কখনোই স্থায়ী হয় না। তাই ভালোবাসুন, সাহায্য করুন—তবে নিজের অস্তিত্ব ভুলে নয়।

FAQ: সম্পর্ক, দায়িত্ব ও বাস্তবতা

প্রশ্ন: শ্বশুরবাড়ির অবহেলা কি খুব সাধারণ ঘটনা?
উত্তর: অনেক পরিবারে জামাইদের প্রতি অবহেলা বা কৃতজ্ঞতার অভাব দেখা যায়, বিশেষ করে তারা আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে।

প্রশ্ন: একতরফা আত্মত্যাগ কি সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর?
উত্তর: হ্যাঁ, একতরফা আত্মত্যাগ দীর্ঘমেয়াদে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং সম্পর্ককে ভারসাম্যহীন করে।

প্রশ্ন: অর্থ ছাড়া কি সম্পর্ক টিকে থাকে না?
উত্তর: প্রকৃত সম্পর্ক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, তবে বাস্তব সমাজে অর্থের ভূমিকা অনেক বেশি।

প্রশ্ন: এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত?
উত্তর: আত্মসম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে না দিয়ে আত্মরক্ষা করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সংগৃহীত

Post a Comment

1 Comments